এখন দাম হুহু করে পড়ে যাওয়া সত্ত্বেও, গবাদি পশু কিনতে চাইছেন না কৃষকেরা। বেশ বুঝতে পারছেন, পরে এগুলো বেচতে গেলে খুব ঝামেলায় পড়তে হবে। “ষাঁড়দুটোকে নিয়ে হাটে-হাটে ঘুরতে গিয়ে কয়েক হাজার টাকা খরচ হয়ে গেছে আমার,” জানান কোঠুলে। “আদুল আমার বাড়ি থেকে চার কিলোমিটার দূরে, তাই এখানে ষাঁড়গুলো নিয়ে হেঁটেই এসেছি। অন্য সাপ্তাহিক হাটগুলো ২৫ কিলোমিটারের মধ্যে, তাই গরুর গাড়ি ভাড়া করতেই হয় তখন। এর মধ্যেই আমার অনেক টাকা দেনা হয়ে গেছে। এখন এই ষাঁড়গুলো না বেচলেই নয়।“
কথা বলতে বলতেই খদ্দেরের খোঁজে মরিয়া হয়ে ইতিউতি চাইতে থাকেন কোঠুলে। সেই সকাল ৯টায় বাজারে পৌঁছেছেন, আর এখন বাজে দুপুর ১টা। মারাত্মক গরম। “এখানে আসার পর থেকে এক ফোঁটা জলও খাইনি,” তিনি জানান। “পাছে কোনও খদ্দের হাতছাড়া হয়ে যায়, সেই ভয়ে ষাঁড়গুলোকে পাঁচ মিনিটের জন্যেও একা রেখে কোথাও যেতে পারছি না।“
চারপাশের তাপমাত্রা এখন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁইছুঁই। তারই মধ্যে লোকজনের ভিড়ে সরগরম হাটে দাঁড়িয়ে এমনি আরও কত কৃষক যে যার মতো করে আপ্রাণ চেষ্টা করছেন কোনওভাবে যদি একটা অন্তত সওদার বন্দোবস্ত করা যায়। আদুল থেকে ১৫ কিলোমিটার দূর ওয়াকুলনির বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সি জনার্দন গীতে যেমন নিজের তাগড়াই বলদগুলোকে আরও নজরকাড়া করে তোলার জন্য তাদের শিংয়ে ধার দেওয়াচ্ছিলেন। ভান্ডাস যাদবের কাছে শিং ধারালো করার যন্ত্রপাতি আছে, তিনি প্রতিটা পশুপিছু শিং ধার করাতে ২০০ টাকা করে নিচ্ছেন। গীতের কথায়, “৬৫,০০০ টাকা দিয়ে বলদজোড়া কিনেছিলাম। এখন এগুলো বিক্রি করে ৪০,০০০ টাকা পেলেই বর্তে যাব।“
কোঠুলে জানান মারাঠওয়াড়া জুড়ে জলাভাব বেড়েই চলেছে, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে পশুখাদ্যের দাম। ফলে গবাদি পশু রাখা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে আবার গোশালার অভাব তো আছেই। ফড়নবিশ গরুর মাংস নিষিদ্ধ করার সময় গবাদি পশুদের জন্য আশ্রয়শিবির চালু করবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। যেখানে কৃষকেরা চাষের কাজে অক্ষম গরু-বলদ দান করতে পারবেন, নিরুপায় হয়ে তাদের দেখভালের খরচ আর বইতে হবে না। কিন্তু আদতে ওসব শিবির-টিবির কিছুই তৈরি হয়নি, তাই কৃষকদের দ্বিগুণ সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তাঁরা পশুগুলো বিক্রি করে রোজগার করতেও পারছেন না, আবার কোনও কাজে লাগানো না গেলেও তাদের ভরণপোষণ চালাতে বাধ্য হচ্ছেন।
“নিজেদের বাচ্চাকাচ্চারই খাওয়া-পরার ঠিক নেই, বুড়ো গরু-বলদের খাবার জোটাব কোত্থেকে?” প্রশ্ন ছোঁড়েন কোঠুলে। “প্রতিটা পশুর জল ও খাবার বাবদ সপ্তাহে ১০০০ টাকা করে বেরিয়ে যায়।“
গোমাংসে নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত আইনের এই নয়া সংশোধনের জেরে গ্রামীণ অর্থনীতির গোটা পরিসর জুড়ে আরও অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। দলিত চর্মশিল্পী থেকে শুরু করে পরিবহণ ব্যবসায় যুক্ত লোকজন, মাংসের কারবারি, যাঁরা হাড় থেকে ওষুধ তৈরি করেন – সকলের জীবন-জীবিকাই বিরাটভাবে ধাক্কা খেয়েছে।