গত একমাস ধরে ওসমানাবাদের কলম্ব তালুকের বিট্ঠল চহ্বান একটা ফোনের অপেক্ষায় হাপিত্যেস করে বসে আছেন! ফেব্রুয়ারির ২৮ তারিখে কলম্বেরর নাফেড (NAFED) কেন্দ্রে ৯ কুইন্টাল অড়হর ডালের 'খাতা' করেছেন। অর্থাৎ কিনা সরকার বাহাদুর যাতে তাঁর থেকে ডাল কিনতে পারে, তার জন্য সরকারের খাতায় নিজের নাম নথিভুক্ত করে এসেছেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক একটা নোটবুকে তাঁর নাম ও ফোন নম্বর লিখে, 'আপনাকে ফোন করে জানানো হবে,' বলে খালাস দিয়েছেন।
"আমি ওদের দু'দিন অন্তর ফোন করেছি। ২৮ তারিখের পর থেকে চার-পাঁচবার ওদের অফিসেও গেছি,” মে মাসের শুরুর দিকে এক তপ্ত সকালে নাফেড অফিসে আধিকারিকের টেবিলের অন্যদিকে বসে কথাগুলো বললেন বিট্ঠল। পানগাঁওয়ে তাঁর ৯ একর জমি আছে। ২৫ কিলোমিটার পথ উজিয়ে কলম্বে এসেছেন তিনি শুধু একথা জানতে যে তাঁর অড়হর ফসল আদৌ কেনা হবে কি না। আরও বহু চোখেমুখে একই চিন্তা আর প্রশ্ন। বিট্ঠল চহ্বানের কথায়, “ওরা [নাফেড] জানিয়েছে, তাদের গুদামে আর জায়গা নেই আর যথেষ্ট বস্তাও নেই। তাছাড়া এখন অন্তিম তারিখ পেরিয়ে গেছে আর এদিকে আমার কাছে রেজিস্ট্রেশনের কোনও লিখিত প্রমাণও নেই।"
গতবছর অড়হর ডালের প্রচুর ফলনের জন্য ২০১৬ সালের ডিসেম্বরের মাঝামাঝি মহারাষ্ট্র সরকার ন্যাশনাল এগ্রিকালচার কোঅপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়া প্রতিষ্ঠা করে। নানান জেলা জুড়ে বিভিন্ন তালুকে নাফেড এর শাখা খোলা হয়। উদ্দেশ্য একটাই যাতে ফড়েদের (মধ্যসত্বভোগী) হাতে পড়ে চাষিদের ঠকতে না হয়।
কিন্তু আদতে নাফেড কেন্দ্রগুলি এই কর্মকাণ্ডের জন্য প্রস্তুত নয়। নাফেডের কলম্ব কেন্দ্রের আধিকারিক নিজেও একথা অস্বীকার করছেন না। তিনি কলম্বের কৃষি বিপণন কমিটির সচিব এস সি চহ্বানের সঙ্গে আলোচনায় ব্যস্ত। চহ্বানের কথায়, "আমরা একটা রিপোর্ট তৈরি করছি। সরকারের কাছে পাঠাচ্ছি। বহু কৃষকই সময়সীমা ফুরোবার আগে এসেছিলেন, কিন্তু আমরা কিছু বিশেষ কারণে ওগুলো নিতে পারিনি। সরকার থেকে জানালেই, আমরা তৎক্ষণাৎ সেইমতো কাজ করব।"


