জাঁতাপেষাই গান প্রকল্পের এই কিস্তিতে: কোলাভাডে গাঁয়ের লীলাবাই কাম্বলে বলেন মায়ের জায়গা যে আর কেউ কিছুতেই নিতে পারে না, শ্বশুরবাড়ির নির্মমতার কথাও উঠে আসে তাঁর গানে। আর গানের সুরে জামাইকে নিজের চাহিদায় একটু রাশ টানার উপদেশ দেন তারাভাই উভে
“যে সরপঞ্চের একটু বুদ্ধিশুদ্ধি আছে, নিজের বক্তব্য আছে, ক্ষমতাওয়ালা পুরুষমানুষ বা ঠগ-জোচ্চোররা তার পাশে থাকবে কেন? যারা ওদের কথায় ওঠাবসা করবে শুধু তাদেরই তুইয়েবুইয়ে চলে ওরা," সাফ জানান বছর আটান্নর লীলাবাই কাম্বলে। পুণে জেলার কোলাভাডে গাঁয়ের এই ভাগচাষির চোখ এড়ায় না কিছুই। "তার ওপর যদি সরপঞ্চ মেয়ে হয় তো, তার বর কিংবা শ্বশুরই ছড়ি ঘোরাবে। মেয়েটা আগাগোড়াই তাঁবে থাকবে ওদের। বেচারি একবার নিজের মত অনুযায়ী চলুক,ওর নিজের বাড়ির পুরুষ মানুষেরাই ওর জান কাহিল করে দেবে।"
পুণে জেলার পাহাড়ি এলাকার গ্রামে গ্রামে আর্থিকভাবে দুর্বল জনগণের সঙ্গে কর্মরত গরিব ডোঙ্গরি সংগঠনা বা জিডিএস-এর সঙ্গে অধিকারকর্মী হিসেবে যুক্ত আছেন লীলাবাই। জিডিএস-এর তরফেই যে প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা ক্লাস হয়েছিল, সেখানে তিনি লিখতে-পড়তে শেখেন। দেখতে দেখতে গ্রামস্তরের রাজনীতি নিয়ে পাকাপোক্ত ধারণা তৈরি হয় তাঁর।
স্বামী বিঠঠল, ছেলে সন্তোষ, বৌমা শীতল আর দুই স্কুলপড়ুয়া নাতি – যশ আর সোহম, এই নিয়েই লীলাবাইয়ের সংসার। ভাগচাষি পরিবার। ১০ থেকে ২০ গুণ্ঠা অর্থাৎ সওয়া বা অর্ধেক একর জমিতে খাটাখাটনি করেন তাঁরা। যেটুকু যা ফসল ফলান তার প্রায় ৫০ ভাগই যায় জমিদারের দখলে। অতএব, লীলাবাইয়ের অন্য দুই ছেলে অশোক আর নন্দকুমার যে পুণে শহরে নির্মাণকর্মীর কাজ নিয়েছেন, এতে আর আশ্চর্য কি!






