“আমাদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী রাম স্বরূপ; ওর কিছু জমিজায়গা আছে।” অন্যরা তাঁর পিছনে লাগে, ঠাট্টা-ইয়ার্কি করে। কৃষিমজুরদের এই দলটায় রাম স্বরূপই একমাত্র যার এক একর জমি আছে। তাঁর বাবার দুই একর জমি ছিল, সেই জমি তাঁর ও তাঁর ভাইয়ের মধ্যে ভাগ হয়ে জমিমালিকের তকমা গায়ে লেগেছে তাঁর।
মজুরদের এই দলটায় ১৫০ জন মতো আছেন, গুরগাঁওয়ের শহরতলিতে একটা জমি প্রকল্পে কাজ করার জন্য হরিয়ানার ফতেহাবাদ জেলার নানা গ্রাম থেকে তাঁদের এখানে নিয়ে এসেছেন এক মজুর-ঠিকাদার। জমির দিকে যেতে যেতে ভাজির বলেন, “এরা সব আমার জেলা ফতেহাবাদের লোক, সেইভাবেই চেনাজানা। আমিও এককালে ওদের মতো ছিলাম। কুড়ি বছর আগে আমি আমার গ্রাম ভাট্টু থেকে এই শহরে আসি কাজের খোঁজে।” জায়গায় পৌঁছনোর আগেই চোখে পড়ে দু’জন মহিলা শ্রমিক। আমরা কথা বলার জন্য দাঁড়াই। কোথায় যাচ্ছেন তাঁরা?
“আমরা এই ইমারতি সাইটে কাজ করি। ইট, বালি মাথায় করে বয়ে নিয়ে যাই। দু’মাস হল গুরগাঁওয়ে কাজ করছি। আমার বাড়ি রাজস্থানের দৌসা। ওখানে পরিবার আছে। তিন মাস পর দিওয়ালির সময় বাড়ি যাব। কিন্তু এখন কাজে যেতে হবে, নইলে দেরি হয়ে যাবে,” গড়গড় করে বলেই সাইটের দিকে দ্রুতপায়ে হাঁটা লাগান সীতা দেবী।












