তামিলনাড়ুর কোটাগিরি পঞ্চায়েতের ভেলারিকোম্বাই গাঁয়ে আর. কৃষ্ণাকে বেশ একজন কেউকেটাই বলা চলে। এ অঞ্চলে তাঁর নামডাক আসলে প্রথাগত কুরুম্বা চিত্রকলার ওস্তাদ শিল্পী হিসেবে। এ ধরনের ছবির কারুকাজ জ্যামিতিক, অহেতুক জাঁকজমক নেই। আর বিষয়বস্তু বলতে ফসল-কাটার পরব, ধর্মীয় আচার, মধু সংগ্রহের অভিযান কিংবা নীলগিরির আদিবাসীদের এমন নানান জীবনচর্যা।
সবুজে-সবুজ চায়ের বাগিচা, ফলের ভারে পড়ো-পড়ো কাঁঠাল গাছের পাশ দিয়ে ঘণ্টা দুয়েক চড়াই পথ হেঁটে এসে ঘন জঙ্গলের মধ্যে তাঁর সাক্ষাৎ মিলেছিল। প্রত্যন্ত এক পাহাড়ি পথের চুলের-কাঁটার মতো বাঁকটা ঘুরে আমি আর আমার দুই সঙ্গী টালমাটাল পায়ে এসে পড়েছিলাম হঠাৎ রোদ্দুরধোয়া এক টুকরো জমিতে, কিংবা বলা ভালো – এক্কেবারে কৃষ্ণার মুখোমুখি।
বলাকওয়া নেই আচমকা এমন করে হাজির হওয়ায় তিনি অবশ্য মনে কিছু করেননি। বরং খুশিমনেই ফাঁকা জায়গাটায় বসে তাঁর পোর্টফোলিওটার জিনিসপত্তর দেখাতে শুরু করেছিলেন। জরাজীর্ণ একখানা হলদে থলের মধ্যে কমলা রঙের প্লাস্টিকের খাঁজকাটা ফোল্ডার, আর তার মধ্যে থেকেই বেরোল কয়েক ডজন খবরের কাগজের কাটিং, তোলা ছবি আর তাঁর সাধের শিল্পকাজ। সব জায়গায় এই লটবহর নিয়েই ঘোরেন তিনি, হয়তো কখন কার সঙ্গে এমনিধারা মোলাকাত হয়ে যায় সেই ভেবেই এহেন ব্যবস্থা।








