পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায় তারাপীঠ রেল স্টেশনে নেমে ধরতে হবে গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড। গোটা রাস্তা ধুলোয় ভর্তি। স্টোন চিপে ভর্তি পেল্লায় ট্রাকগুলো এবড়োখেবড়ো পথ দিয়ে চলছে, সর্বত্র ধোঁয়া আর ধুলো উড়ছে। ধোঁয়ায় প্রায় কিছু দেখা যায় না। নাকে মুখে ধুলো ঢুকছে। শরীরের ভিতরে চলে যাচ্ছে পাথরগুঁড়ো। চোখ জ্বলছে। নাক, মুখ, চোখ ঢেকে রাখতে হচ্ছে রুমালে।
আমরা যাচ্ছি বীরভূমে মল্লারপুর পাথর খাদান এলাকায় আদিবাসী গ্রাম গড়িয়ার দিকে। সেখানে একটি এনজিও, নাম উৎনৌ, আদিবাসী শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার পাঠটা সহজ করেছে, সংস্থাটি আদিবাসীদের মাতৃভাষায় পড়ায়। ওখানে যে শ্রমিকরা পাথর খাদান আর ক্রাশারে কাজ করেন, আমি তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে চাই।
গড়িয়া পোঁছে আমার সঙ্গে দেখা হল ঘাসিরাম হেমব্রমের। তিনি সাঁওতালি গ্রামগুলির মোড়লদের সংগঠন ভারত জাকাত মাঝি মান্ডুয়ার সদস্য। তাছাড়া তিনি সমাজকর্মীও। তিনিই এখানে আমাকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলেছেন। লিপিডি গ্রামের দিকে যাওয়ার পথে এক বৃদ্ধার সঙ্গে দেখা হয়, একাই হাঁটছিলেন। কালো চামড়া। মাথায় কোঁচকানো পাকা চুল। খালি পা। সামনের দাঁত নেই। সাদা শাড়ির উপর একটা লাল শাল পরে আছেন। ঝাড়খণ্ড সীমান্তে একাই থাকেন তিনি। স্বামী ও সন্তানরা ছেড়ে চলে গেছেন তাঁকে। বলছন তিনি, বাপ-ঠাকুর্দার জমি ক’টাকায় খাদান মালিককে বিক্রি করে দিয়ে তাঁকে ছেড়ে চলে গিয়েছেন সকলে। এখন তিনিও তাঁর বাড়িটা হারানোর মুখে। পাথর খাদানের হাঁ ক্রমে বড়ো হচ্ছে। যে কোনও দিন ঢুকে যাবে খাদানের পেটের ভিতর। পেট চালানোর জন্য তিনিও পাথর ক্রাশারে কাজ করেন, ট্রাক থেকে বোল্ডার নামান, তার পরে হাতুড়ি চালিয়ে সেগুলো থেকে চিপ তৈরি করেন।
ঘাসিরাম এই মানুষগুলোকে খাদান-শিল্পের বিরুদ্ধে সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। এই বৃদ্ধাকেও বললেন, যাতে খাদান মালিকদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর জন্য ছেলেদের বলেন তিনি। কিন্তু, তাঁর কথা শোনার আর কেই বা আছে। চলে যান বৃদ্ধা।








