
Kolhapur, Maharashtra
|TUE, AUG 04, 2026
আলগা সুতোয় ঝুলছে লক্ষ্মীবাইয়ের পোক্ত কারিগরি
পারি’র প্রতিবেদক সংকেত জৈন স্থির করেছেন সমগ্র ভারতবর্ষের অন্তত তিনশটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করবেন এবং একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত করবেন: গ্রামীণ জীবনের যে কোনও ঘটনা বা দৃশ্যকে ঘিরে একটি আলোকচিত্র তুলবেন এবং তারপর সেই আলোকচিত্রটিকে একটি স্কেচে রূপান্তরিত করবেন। পারির এই সিরিজের এটি নবম প্রয়াস। স্লাইডারটি কোনও একটি দিকে টানলে আলোকচিত্রটি অথবা স্কেচটি সম্পূর্ণ দেখতে পাওয়া যাবে
Author
Editors
Translator
Translation Editor
পারি’র প্রতিবেদক সংকেত জৈন স্থির করেছেন সমগ্র ভারতবর্ষের অন্তত তিনশটি গ্রামে ঘুরে ঘুরে তিনি প্রতিবেদন তৈরি করবেন এবং একই সঙ্গে আরেকটি প্রকল্প বাস্তবায়িত করবেন: গ্রামীণ জীবনের যে কোনও ঘটনা বা দৃশ্যকে ঘিরে একটি আলোকচিত্র তুলবেন এবং তারপর সেই আলোকচিত্রটিকে একটি স্কেচে রূপান্তরিত করবেন। পারির এই সিরিজের এটি নবম প্রয়াস। স্লাইডারটি কোনও একটি দিকে টানলে আলোকচিত্রটি অথবা স্কেচটি সম্পূর্ণ দেখতে পাওয়া যাবে
“সুতো বোনা আমি কখনই বন্ধ করব না,” নিজের চরকার দিকে তাকিয়ে একগাল হেসে বলে উঠলেন লক্ষ্মীবাই ধাঙ্গর। লক্ষ্মীবাইয়ের বয়স ৭০, অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ভেড়ার লোম ও পশম থেকে নিজের হাতে সুতো কেটে চলেছেন। অসাধারণ তাঁর এই দক্ষতার জন্য অবশ্য নেই কোনও বাজার।
এককালে তিনি দৈনিক দশ ঘণ্টা সুতো তৈরিতে ব্যয় করতেন। লক্ষ্মীবাইয়ের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে কত কথা: “আমার বিয়ের ঠিক আগে [প্রায় ১৫ বছর বয়সে] আমার শাশুড়ি বারো বস্তা [মোটামুটি আন্দাজে ১২০ কিলোগ্রাম] ভেড়ার লোম জমিয়ে রেখেছিলেন। “প্রতিদিন প্রায় আট থেকে দশ ঘণ্টা পরিশ্রম করে ওই বারো বস্তা থেকে সুতো তৈরি করার কাজটা শিখতে আমার ছয় মাস সময় লেগেছিল।” এখন অবশ্য তিনি দিনে মাত্র দুই ঘণ্টাতেই সেই কাজটা সেরে ফেলেন।
লক্ষ্মীবাই গোষ্ঠীগত পরিচয়ে ধাঙ্গর, প্রথাগতভাবে ছাগল ও ভেড়া পালনকারী সম্প্রদায়ের মানুষ (বর্তমান মহারাষ্ট্রে অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি বা ওবিসি হিসাবে নথিভুক্ত)। মহারাষ্ট্রের কোলহাপুর জেলার কারভির ব্লকের আদুর গ্রামে তাঁর বসবাস। এখানে বছরে দুইবার - মূলত, অক্টোবর-নভেম্বর মাসে দীপাবলির পরে এবং এপ্রিল-মে মাসে অক্ষয় তৃতীয়া উৎসবের শেষে - ভেড়ার লোম ও পশম কাটা হয়।
লক্ষ্মীবাই বলেন, “বছরের পর বছর ধরে কেবল মহিলারাই সুতো তৈরি করে আসছেন, আর পুরুষরা ভেড়ার পশম তোলা এবং দুধ দোয়ার কাজ করছেন।” ঐতিহ্যগতভাবে, কেবল পুরুষরাই পশু চরাতে যেতেন, কিন্তু এখন অবশ্য মহিলারাও এই কাজ করেন।
বর্তমানে ধাঙ্গররা মেশিনের সাহায্যে ভেড়ার মোটা লোম নরম ও মসৃণ করার জন্য প্রতিবেশী গ্রামের লোকজনকে কেজি-প্রতি আট টাকা মজুরি দিয়ে কাজ করান। আগে মহিলারা ধনুকের মতো দেখতে কাঠের একটা সরঞ্জাম ব্যবহার করে নিজের হাতেই কাজটা করতেন।
নরম করা চুল চরকায় পাকিয়ে সুতো তৈরি হয়। এই সুতো সাঙ্গরদের কাছে পাঠানো হয় (ধাঙ্গরদের একটি উপগোষ্ঠী, প্রথাগতভাবে পশম বোনার কাজে দক্ষ)। এরপর সাঙ্গর পুরুষরা তা দিয়ে ঘোঙ্গাড়য়্যা (কম্বল) বোনেন। সাড়ে সাত ফুট বাই আড়াই ফুট আকারের একটি ঘোঙ্গাডি বুনতে সাঙ্গররা চারশো টাকা নেন এবং তাতে প্রায় ছয় কেজি ভেড়ার লোম থেকে তৈরি সুতোর প্রয়োজন হয়। ধাঙ্গর মহিলারা সুতো কাটার জন্য নিজেদের বহু ঘণ্টার শ্রমের মূল্য-এর সঙ্গে যোগ করে ১,৩০০ টাকা বাজার মুল্যে এই ঘোঙ্গাড়য়্যাগুলোকে বিক্রি করেন।
“আজকাল ১,৩০০ টাকায় বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। মেশিনে বোনা বিছানার চাদরের দাম বাজারে মাত্র ৫০০ টাকা আর একটা ঘোঙ্গাড়ি বুনতে যে কতটা শ্রম লাগে, তা মানুষ বোঝে না!” তিনমাস ধরে না বিক্রি হওয়া একটা ঘোঙ্গাড়ি দেখিয়ে বলে ওঠেন লক্ষ্মীবাই। এক দশক আগেও তাঁরা মাসে অন্তত চারটি বিক্রি করতে পারতেন। এখন সেই সংখ্যা কমে এসে দাঁড়িয়েছে মাত্র একটায়।
আগে কোলহাপুর জেলার কালাম্বে তর্ফ কালে, ভামটে, চুয়ে, কোপার্ডে ইত্যাদি নানান গ্রাম থেকে লোকজন তাঁদের বাড়িতে ঘোঙ্গাড়য়্যা কিনতে আসতেন। “এখন শুধু বয়স্করাই কেনেন।”
“তিন দশক আগে আমার গ্রামে প্রায় ত্রিশ জন ধাঙ্গর মহিলা সুতো কাটতেন। এখন আমরা মাত্র বারোজন আছি,” লক্ষ্মীবাইইয়ের আন্দাজে । পড়তি আয়, বার্ধক্য এবং বাজারে ঘোঙ্গাড়য়্যার পড়ে আসা চাহিদার মতো কারণই এই পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য দায়ী।
সুতো কাটা, মাঠে খাটাখাটনি এবং ঘোঙ্গাড়য়্যা বিক্রির কাজে অসংখ্য ঘণ্টা পরিশ্রম করার পরেও লক্ষ্মীবাই মাসে পাঁচ হাজার টাকার কম আয় করেন। প্রায় এক দশক আগেও, লক্ষ্মীবাই চাষের মরসুমে আদুর গ্রামের পরের জমিতে কৃষি শ্রমিক হিসেবে জন খাটতেন। প্রতিদিন আট ঘণ্টা কাজের বিনিময়ে ১০০ টাকা আয় হত। তাঁর কথায়, “আমার বাবা-মাও খেতমজুর হিসেবে কাজ করতেন এবং আমাকে কোনও স্কুলে পাঠানোর সামর্থ্য তাঁদের ছিল না।”
প্রতি বছর তাঁর স্বামী (৭৫), শামরাও ধাঙ্গর, মহারাষ্ট্রের পুণে, সাঙ্গলী, কোলহাপুর, সাতারা ও সোলাপুর জেলার গ্রামে গ্রামে এবং কর্ণাটকের বেলগাঁও জেলার নানান গ্রামে পাড়ি দিয়ে হাজার হাজার কিলোমিটার জুড়ে প্রায় ২০০টি ভেড়া ও ছাগল চরাতেন। পশ্চিম মহারাষ্ট্রে (জুন থেকে সেপ্টেম্বর) জোরদার বর্ষা শুরু হওয়ার অন্তত তিন মাস আগে ধাঙ্গর পরিবারগুলি সাধারণত অন্যত্র চলে যায়।
শামরাও ও লক্ষ্মীবাইয়ের দুই ছেলে, বীরদেব (৩৫) এবং সুরেশ (৪০) - দুজনের মোট ৬৪টি ভেড়া ও ৬টি ছাগল রয়েছে। পশুর সংখ্যা কমে যাওয়া প্রসঙ্গে শামরাও বলেন, “আজকাল সবাই চারণভূমিতেও আখ চাষ করছে। আর কৃষকেরা আমাদের তাদের জমিতে ঢুকতে দেয় না। এখন এই পশুগুলোকে চরানো খুব কঠিন হয়ে উঠছে।”
তাঁদের দুই মেয়ে, ভারতী (৪০) এবং তিরিশ পার করা সংগীতা উভয়েই বিবাহিত। দুই বোনের মধ্যে ভারতী সুতো কাটার কাজটা চালিয়ে যাচ্ছেন। লক্ষ্মীবাইয়ের কথায়, “আমার বৌমা সবসময় বলে: ‘আমি এই কাজটা করতে পারব না। তার চেয়ে ভালো খেতমজুরের কাজ করা।” তরুণ প্রজন্মের অনেকেই অন্যান্য বিকল্প খুঁজছেন। যখন যেমন সুযোগ আসছে সেটাই গ্রহণ করছেন - যেমন শিল্পক্ষেত্রে কাজ।
লক্ষ্মীবাইয়ের এখন নিজের চরকায় দৈনিক কাজের সময় কমে গিয়ে দুই ঘণ্টায় এসে দাঁড়িয়েছে। বেড়ে চলা কোমরের যন্ত্রণা ও তাঁর এই সুদক্ষ কাজের চাহিদা কমে যাওয়াই এর কারণ। তিনি বলেন, “নতুন প্রজন্ম আর মোটেই এই কাজ করবে না। এখন আমার একটাই চাওয়া - যেন আমাদের কঠোর পরিশ্রমের প্রতীক এই ঘোঙ্গাড়িগুলো ন্যায্য দাম পায়।”
Want to republish this article? Please write to [email protected] with a cc to [email protected]
Donate to PARI
All donors will be entitled to tax exemptions under Section-80G of the Income Tax Act. Please double check your email address before submitting.
PARI - People's Archive of Rural India
ruralindiaonline.org
https://ruralindiaonline.org/articles/laxmibais-skills-hang-by-a-rough-thread-bn

