“প্রতিটি আংগামি পুরুষেরই খোফি (ঝুড়ি) বোনার কাজটা জানা উচিত,” নাগাল্যান্ডের খোনোমা গ্রামের ৩৯ বছর বয়সি কারিগর পেলেসালি কুওতসো বলেন। জ্যুসা (বাঁশ) ও থুনিয়ে (বেত) দিয়ে তৈরি আঙ্গামীদের ঐতিহ্যবাহী ঝুড়ি খোফি জ্বালানি কাঠ, চাল, উৎপাদিত ফসল অথবা অনুষ্ঠানের সামগ্রী রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। “আমাদের ঐতিহ্যে এটির বেশ বড়ো ভূমিকা রয়েছে। চিরকাল এটির মর্ম আমাদের বুঝে চলা উচিত,” তাঁর আরও সংযোজন।
এককালে এই সম্প্রদায়ের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ হলেও, আজ খোনোমা গ্রামে ১৫টিরও কম পরিবার খোফি-বুননের ধারাটি টিকিয়ে রেখেছেন, তাও মূলত প্রবীণেরাই। পেলেসালি অবশ্য ব্যতিক্রম।
বছর পঞ্চাশের কেপে থোটোর হাত অভিজ্ঞ নিপুণতায় বাঁশের ফালি ছেঁটে চলেছে। হালকা আলোয় ঘেরা তেরহু নামে শুকনো পাতায় বোনা বাঁশ, কাঠ এবং বেতের তৈরি একটি আধ-ঢাকা কাঠামোর উপর বসে থাকতে দেখা যায় তাঁকে। তেরহুর ছায়ায় দুপুররোদের তেজ থেকে স্বস্তি মেলে।
“আমার জন্ম বুননশিল্পীদের পরিবারে। আমাকে এবং আমার তুতো ভাইদের সকলকেই এই খোফি- বোনার কাজটি শেখানো হয়েছে,” বাঁশের ফালিগুলো নিয়ে কাজ করতে করতেই বলে ওঠেন কেপে।
নাগাল্যান্ডের ১৭টি স্বীকৃত আদিবাসী গোষ্ঠীর মধ্যে আংগামিরা অন্যতম। উনিশ শতকের গোড়া থেকেই ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক দখলের বিরুদ্ধে নাগা প্রতিরোধের এক অন্যতম ঐতিহাসিক স্থান খোনোমা। রাজ্যের রাজধানী কোহিমা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত এই আংগামি গ্রামটি সম্প্রদায় ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার জন্য পরিচিত। আশপাশের জঙ্গলে শিকার করা ও গাছ কাটার উপর নিষেধাজ্ঞা এবং জৈব চাষের ধারা তার মধ্যে অন্যতম।
২০ বর্গ কিলোমিটারের পাহাড়ি এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই গ্রামটির বৈশিষ্ট্য এর পাথুরে রাস্তাঘাট, ধাপচাষের ধানখেত এবং ঐতিহ্যবাহী বাড়িগুলোর বাইরে পরিপাটি করে সাজানো জ্বালানি কাঠের স্তূপ।
৪০০’র সামান্য বেশি আংগামি পরিবার নিয়ে গঠিত এই গ্রামটির জনসংখ্যা ১৯৪৩ (জনগণনা ২০১১)। গ্রামটি মূলত পাথুরে ধাপজমিতে ধানচাষ, ঝুম চাষ ও বনজ দ্রব্য সংগ্রহের উপরেই নির্ভরশীল। আশপাশের জঙ্গলগুলি সম্প্রদায়ের মানুষদের দ্বারাই সংরক্ষিত, বিশেষ করে খোনোমা প্রকৃতি সংরক্ষণ ও ট্রাগোপান অভয়ারণ্যের মধ্যস্থতায়।


















