দক্ষিণ কোরিয়ার ইস্পাত প্রস্তুতকারক সংস্থা পসকোর জগৎসিংপুরের প্রস্তাবিত প্রকল্প গত ৩১ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রী জয়রাম রমেশের ছাড়পত্র পেতেই রবিবার বালিতুথা বাজার এলাকায় শয়ে শয়ে মানুষ জড়ো হয়ে পসকো বিরোধী কমিটির শক্তি প্রদর্শনে নামেন।
এই বিক্ষোভ জমায়েতে স্থানীয় গ্রামবাসী থেকে শুরু করে আন্দোলন তথা অধিকারকর্মীদের পাশাপাশি যোগ দিয়েছিল ওড়িশা ও ওড়িশার বাইরের বুনিয়াদি স্তরের সংগঠনগুলিও।
"জীবন-জীবিকা থেকে উৎখাত হয়ে গেলে পরিবারও উৎপাটিত হয়। চালচুলো হারালে পরিবার আর থাকবে কেমন করে?" প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন পসকো প্রতিরোধ সংগ্রাম সমিতির অভয় সাহু। তাঁর আরও সংযোজন, “কুজাং এবং ইরসামার মতো অঞ্চল মৎস্যচাষের ওপর নির্ভর, তাই এখানে বন্দর হলে মাছচাষ জনিত সব কাজকর্ম শেষ হয়ে যাবে। সাহু জানালেন বহু প্রজন্ম ধরে এই অঞ্চলের জঙ্গল নির্ভর বনবাসীদের ঘরবাড়ি ও জীবনজীবিকা সম্পর্কে ওড়িশা সরকার কেন্দ্রীয় সরকারকে যে “মিথ্যা রিপোর্ট” দিয়েছে তাকে চ্যলেঞ্জ জানাবে পসকো প্রতিরোধ সংগ্রাম সমিতি।" তথ্যপ্রমাণ বাবদ আমরা যেসব নথি-দস্তাবেজ জমা দিই, তাতে বোঝা যায় মানুষ এখানে ৩০০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করছে। ১৯২০ থেকে ১৯২৯ এর মাঝামাঝি সময়ে সরকারি জরিপ-জনিত মানচিত্র বলছে ধিনকিয়া, গোবিন্দপুর, পাটানা, নুয়াগাঁও-এর পানের বরজ এবং গভীর জঙ্গলের ওপর নির্ভরশীল এখানকার মানুষের জীবন জীবিকা। এটা বনাধিকার আইনের আওতায় পড়ে। কেন্দ্রীয় সরকারের দু-দুটো কমিটি দেখিয়েছে এখানে কতটা গুরুতর স্তরে আইনভঙ্গ হচ্ছে। এফআরএ এই দেশের আইন আর এখন এটাই এই আন্দোলনের মূল অস্ত্র।"
আশি বছরের নকুল বেহরার গোবিন্দপুরে যে শ’দেড়েক পান গাছ আছে, সেখানে থেকে তাঁর প্রায় দশ হাজার টাকা আয় হয়। এছাড়া তাঁর সাতজনের পরিবার আম, কাজু, সজনে ডাঁটা আর বাঁশ চাষ করে মাসে আরও ৩০০০ টাকা পায়। ৩৬ কুইন্টাল চাল আর ১৬টা গরু নিয়ে তাঁরা মোটের ওপর খেয়েপরে আছেন। নকুল দাদার কথায়, "১২ বছর বয়স থেকে এই জমিতে খাটছি, অন্যত্র যাব কোন দুঃখে?” নকুল বেহরার কথার রেশ ধরে সাহুর সংযোজন, “আমরা এই প্রকল্পকে ছাড় দেব না মোটেই এবং আমাদের গণতান্ত্রিক প্রতিরোধ শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব।"
বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন অসরকারি সংগঠন বসুন্ধরার সদস্য শঙ্কর পানি। তাঁরা ১৯৯১ সাল থেকে কৌম বনায়নের কাজে রত আছেন। শঙ্কর পানির দাবি, জেলা আধিকারিকের দফতর গ্রাম পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত অগ্রাহ্য করেছে। "প্রকল্প চাই না – এই মর্মে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি স্পষ্ট নিজেদের সিদ্ধান্ত জানানো সত্ত্বেও মহকুমা এবং জেলাস্তরের কমিটি নিজেদের মর্জিমতো কাজ করেছে।"
পসকো প্রতিরোধ সংগ্রাম সমিতির মুখপাত্র প্রশান্ত পাইকরায় জানিয়ে দিলেন, জঙ্গলের জমিতে বনবাসীদের অস্তিত্ব নিয়ে গ্রামসভাগুলিতে যে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল সে ব্যাপারে তাঁরা সরকারকে নোটিশ দেবেন।
সিএসই মিডিয়া ফেলোশিপস এর অধীনে রচিত এই প্রতিবেদনটি ২০১১ সালের মার্চ মাসে দ্য হিন্দুস্তান টাইমসে প্রকাশিত হয়েছে
অনুবাদ: মুদ্রা ব্যানার্জী
অনুবাদ সম্পাদনা: স্মিতা খাটোর



