রুজলুক সু ইয়ারসু থে গোভ বাহনাই অন্ঠে অন্ঠে, এক দম ও পাশ থে গোভ হামলাই অন্ঠে অন্ঠে…
এসেই আবার নানা ছুতোয় চলেও গেল যে, আমায় দেখেই কেন গো হায় মুখ ফেরাল সে
নানা ছুতো করিয়া বন্ধু বিদায় হল যে, আমায় দেখেই কেন গো হায় মুখ ফেরাল সে।



রুজলুক সু ইয়ারসু থে গোভ বাহনাই অন্ঠে অন্ঠে, এক দম ও পাশ থে গোভ হামলাই অন্ঠে অন্ঠে…
এসেই আবার নানা ছুতোয় চলেও গেল যে, আমায় দেখেই কেন গো হায় মুখ ফেরাল সে
নানা ছুতো করিয়া বন্ধু বিদায় হল যে, আমায় দেখেই কেন গো হায় মুখ ফেরাল সে।
কিষানগঙ্গা নদীর দিকে ঠায় তাকিয়ে থাকতে থাকতে গুলাম রসুল মুস্তাক রচিত একটা কবিতা গুনগুনিয়ে আবৃত্তি করেন ফরিদ আহমদ লোন। জম্মু-কাশ্মীরের দর্দ শিন জনগোষ্ঠীর এক নামজাদা কবি গুলাম রসুল।
নদীর ধারে বসে বসে আমরা দেখি, বরফের পাতলা আস্তরণ জমছে আর ছোটো ছোটো টুকরোগুলো ভেসে চলে যাচ্ছে দূরে। নদী এখনও পুরোপুরি জমাট বাঁধেনি। কিন্তু বদলাচ্ছে, নিয়মমাফিক। ঋতুবদলের পালা এল এবার।
কয়েক মিটার দূরে, জ্বালানিকাঠের বান্ডিল আর ঘাসের বোঝা মাথায় তুলে নিচ্ছেন মহিলারা, সব মিলিয়ে ২৫-৩০ কিলো তো হবেই। আরেক মহিলা বইছেন গামলা-ভরা গোবর, তাঁদের সাবেক শীতের উনুন দান-এর জন্য জ্বালানি হবে এই দিয়ে। চারপাশে তাকালে দেখা যায়, গুরেজ ঘুরতে আসা পর্যটকেরা এবার বাসামুখো হচ্ছেন গুটিগুটি।
ঋতুবদলের নিশেনগুলো চিনিয়ে দেন ফরিদ সাহেব। শুধু নদীতেই নয়, গুরেজ যেমন করে আঁটঘাট বেঁধে তৈরি হয় শীতের জন্য, তাতেও দিব্যি ধরা পড়ে সেসব। দর্দ-শিন সম্প্রদায়ের সদস্য ফরিদ জানিয়ে দেন তাঁর বেরাদরির অধিকাংশ লোকই এ উপত্যকায় থাকেন, ৩৭৯৯২ জন (২০১১ সালের জনগণনা) দর্দিক মানুষের বাসভূমি গুরেজ।

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
অক্টোবর নাগাদ যখন শীত পড়ে, তুষারে ঢেকে যায় উপত্যকা। "বয়স্ক লোকেরাই তখন রয়ে যান এখানে,” বলেন বছর আটষট্টির ফরিদ সাহেব। বরফের চোটে এদিক-ওদিক যাওয়াই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে তখন। “যাঁরা রয়ে যান, মূলত ঘরবন্দি হয়েই থাকতে হয় তাঁদের।”
কখনও কখনও পনেরো ফুট বরফের নিচে ঢাকা পড়ে উপত্যকার কিয়দংশ, মাস ছয়েক ধরে বাকি রাজ্যের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে, মোট জনসংখ্যার আশি শতাংশই ঠাঁইনাড়া হতে বাধ্য হয় তখন। “কেউ কেউ কাশ্মীরের অন্য কোনও দিকে চলে যান। কেউ বা মজদুরি কাজের খোঁজে পাড়ি দেন হিমাচল প্রদেশ বা পঞ্জাবের মতো রাজ্যে,” বলেন উদ্যানবিদ্যা বিভাগের অধুনা অবসরপ্রাপ্ত এই বরিষ্ঠ প্রযুক্তিবিদ। শীতকালীন কাশ্মীরে যাঁরা রয়ে যান, তাঁদের অনেকেই ছোটোখাটো হোটেল বা শ্রীনগরের হারিসার দোকানে রাঁধুনিদের সঙ্গে কাজে লেগে পড়েন। (পড়ুন: ধোঁয়া ওঠা হারিসায় সরগরম শ্রীনগরের শীত)
তীব্র শীত আর খামখেয়ালি জলহাওয়ার চোখরাঙানি চলতেই থাকে উপত্যকায়। ২০১৭ সালের ২৫ জানুয়ারি সব মিলিয়ে চারটে তুষারঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল গুরেজ। দাওয়ারে ফরিদের বাড়ি থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে মাজগুন্ড নীরুতে কুড়িজন সেনা-জওয়ান আর চারজন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয় সেবার।
এককালে এই গুরেজে প্রাথমিক ডাক্তারি পরিষেবাটুকুরও যে কী পরিমাণ আকাল ছিল, বেশ মনে পড়ে ফরিদ সাহেবের। ১৯৭০-এর শুরুর দিক তখন। প্রবল শীতের মধ্যে কাছের মারকুট গাঁয়ের এক মৌলবি সাহেব বেজায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১২-১৫ ফুট গভীর বরফ তখন চাদ্দিকে। “লোগ উনকো চারপাই পে লে গয়ে [লোকে ওঁকে একটা খাটিয়ায় শুইয়ে নিয়ে গেল]।” ৮৬ কিলোমিটার দূর বান্ডিপুর পৌঁছতে পাক্কা দু’দিন লেগে গিয়েছিল সেবার।
আরেকবার, এক উস্তাদ মোহতারামের [গাঁয়ের মান্যিজন মাস্টারবাবু] মেয়ের পোয়াতি অবস্থায় নানান সমস্যা হচ্ছিল। তখনকার দিনে জনসাধারণের জন্য কোনও হেলিকপ্টারেরও বন্দোবস্ত তো ছিলই না, প্রসবের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যেতেও এক লাখ টাকার ওপর খরচ পড়ত। ভারতীয় সেনা সাহায্যের হাত বাড়িয়েছিল সেবার। "আর্মি নে সদভাবনা কে জরিয়ে মদদ দেনা শুরু কিয়া [ভারতীয় সেনা তাঁদের অপারেশন সদভাবনার অধীনে মদত করেছিল]।"
এখন, পরিস্থিতির খানিক উন্নতি হয়েছে বটে কিন্তু জম্মু-কাশ্মীরে তফসিলি জনজাতি হিসেবে নিবন্ধিত এই জনগোষ্ঠীর মানুষজনকে আজও জরুরি পরিস্থিতিতে স্থানান্তরণের প্রয়োজন পড়লে সেনাবাহিনীর ওপরেই ভরসা করে থাকতে হয়। আর অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় বা সন্তানপ্রসবের সময় আজও বহু কষ্ট সইতে হয় মেয়েদের।

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
এদিকে ভারত-পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণরেখাও (এলওসি) কাছেই, অতএব সীমান্তের এপার-ওপার গুলি-গোলা বিনিময় নিয়েও চিন্তার অন্ত থাকে না ফরিদ সাহেবের সমাজের মানুষদের। তাছাড়া মরসুমি অভিবাসন তো আছেই।
ছাউনির আশেপাশে এলোমেলো ঘুরতে ঘুরতে হঠাৎ থমকে দাঁড়ান ফরিদ সাহেব। "এই রাস্তাটার স্মৃতি আমার মনে এখনও দগদগে হয়ে আছে, জানেন!" ভারি গলায় বলে চলেন তিনি। "২০০৫ সালের কথা। আমার গাঁয়ের এক বাপ-বেটা ভেড়া চড়িয়ে ফিরছিল। গ্রামে ঢুকতে গেলে এই যে এই সেতুটা দেখছেন, এতে উঠতে হত," রাস্তার অন্য প্রান্তের দিকে আঙুল দেখান তিনি।
"বাপ পিছে পিছে বেটা আগে আগে [বাপ ছিলেন পেছনে, ছেলে হাঁটছিল আগে আগে]," স্পষ্ট মনে পড়ে ফরিদ সাহেবের। কাছেই এক মসজিদে ছিলেন তিনি, একটু দূর থেকে সবটাই চোখে পড়ছিল। দেখেছিলেন, আচমকা একটা বোম কীভাবে এসে পড়েছিল বাপ-ছেলের ওপর। কিন্তু স্বজনহারা পরিবারটির সর্বনাশের আরও বাকি ছিল, বলেন তিনি। ওই একই দিনে, ওই বাড়িরই একটি মেয়ের সেনাছাউনির কাছে কোথাও একটা পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা দিতে বেরিয়ে এলোপাথাড়ি গোলাবৃষ্টির মধ্যে পড়ে যায় সে, তার গায়েও গোলা লাগে।
বলতে বলতে ফরিদ সাহেবের গলা কাঁপে, "এক হি দিন মেঁ ঘর সে এক কা লড়কা গয়া এক কি লড়কি গয়ি [একই দিনে একই পরিবার থেকে একজন তাঁর ছেলে হারালেন আর একজন, মেয়েকে]।" সেবার ২০-২৫ জন সাধারণ মানুষ শেলের আঘাতে প্রাণ হারান, মারা যায় বেশ কিছু গবাদি পশু ও পশুসম্পদও।
আরেকবার, গোলাবর্ষণে বাজারের কাছে দাঁড় করিয়া রাখা একটা বাসে আগুন ধরে গেলে গোটা তুলৈল বাজারটাই ছারখার হয়ে গেছিল। দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল আগুন, মনে পড়ে ফরিদ সাহেবের। তখনকার দিনে, বেশিরভাগ দোকান-টোকানই তো কাঠ দিয়ে তৈরি হত।
"এখানে বসে বসে লোকে বেবাক মরতে চাইবে কেন? এরকম জায়গায় কে-ই বা থাকতে চায় বলুন তো?" ক্ষুব্ধ জিজ্ঞাসা তাঁর। স্ত্রী, চার ছেলে আর তিন মেয়ের সঙ্গে এখন দাওয়ারেই থাকেন তিনি, জনপ্রিয় তুলৈল উপত্যকায় পৌঁছনোর আগে শেষ বাজার এলাকাটি পড়ে দাওয়ারে।

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
আগেও গুরেজে আয়-ইনকামের সুযোগ তেমন ছিল না। "গরু-ভেড়া চড়িয়ে কিংবা আর্মিতে কুলির কাজ করে দিন চালাত এখানকার লোকজন।" প্রতি ঘরেই ঘোড়া থাকত, আর "মুলাজামত বিলকুল কম থি [কামধান্দার পথ বড্ডো কম ছিল]," ফরিদ সাহেব বলেন। অনেকেই গোষ্ঠীর পরম্পরামাফিক পাট্টু বুননের কাজে যুক্ত ছিলেন। পড়ুন: বিলুপ্তির মুখে কাশ্মীরের সাবেক পাট্টু বুনন
উপত্যকার অন্যান্য অংশে গিয়ে লোকে দেখেছিল সেখানে অন্তত গুরেজের চাইতে ভালো কামকাজ, শিক্ষাদীক্ষা, ডাক্তারি সুবিধে মিলছে। ফরিদ সাহেবের মতে, সেজন্যই মানুষজন বান্ডিপুর, কঙ্গন, গান্দেরবাল বা শ্রীনগরের মূল শহরকেন্দ্রে গিয়ে থিতু হতে শুরু করেছেন এখন।
বেরাদরির লোকজন যতই বাস উঠিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে, নিজেদের মাতৃভাষায় কথা বলা ততই মুশকিল হয়ে যাচ্ছে দর্দ-শিনদের জন্য। রসদপত্র কিনতে বান্ডিপুর গেলে, অন্যান্য কাশ্মীরিদের সামনে অনেকেই আর শিনা ভাষায় কথা বলেন না। "এক কমপ্লেক্স হোতা হ্যায়। শায়েদ হম অলগ হ্যায় [কেমন একটা কমপ্লেক্স কাজ করে, মনে হয় আমরা আলাদা কেউ]।"
চিরকাল তো ছবিটা এমন ছিল না। "ছেলেবেলায় সবাইকেই শিনা ভাষায় কথা বলতে দেখতাম," বলেন ফরিদ সাহেব। "কিন্তু এখন বাজারদোকান করতে গেলেই দেখি আমাদের তরুণ-তরুণীরা উর্দু, হিন্দি, কাশ্মীরি এমনকি মাঝেমাঝে ইংরেজিতেও কথা কইছে।"
দর্দিক ভাষাগুলোর অন্যতম শিনা মূলত ইন্দো-আর্য ভাষাগোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে। ইউনেস্কো থেকে বিপন্ন ভাষা হিসেবে তালিকাভুক্ত না হলেও, এ জবানে কথা-বলা মানুষের সংখ্যা দ্রুত হারে কমছে। এখন এটিকে সংকটাপন্ন ভাষার আওতায় রাখা হয়েছে।
গত চল্লিশ বছর ধরে, হাব্বা খাতুন কালচারাল গ্রুপের সদস্য হিসেবে নিজের মাতৃভাষাকে বাঁচানোর চেষ্টা করে যাচ্ছেন ফরিদ সাহেব। নিজেদের সম্প্রদায়ের ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে সচেতনতা গড়ে তুলতে স্কুলে-স্কুলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে তাঁদের সংস্থাটি। তহবিল বলতে থাকে গুরেজের স্থানীয় বাসিন্দাদের অর্থসাহায্য আর মাঝেমাঝে বিভিন্ন পরিবেশনা করে পাওয়া টাকাপয়সা।

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
এই চেষ্টাটুকু টিকিয়ে রাখাও দিন-দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এখানকার প্রায় সব বাচ্চাই তো গুরেজের বাইরে কোথাও পড়ে, কার কাছেই বা শিখবে ওসব? "স্কুলে সকালের প্রার্থনা বলুন, বইপত্র বলুন বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সবই তো উর্দু, হিন্দি অথবা ইংরেজিতে হচ্ছে," আক্ষেপ করেন ফরিদ সাহেব। " ইস্কুলগুলোয় আমাদের আয়োজন করা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যখন শিনায় গান গাই, গানের মানে বুঝতে বেশিরভাগ পড়ুয়াই নাজেহাল হয়।"
প্রজাতন্ত্র দিবস বা স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের জন্য বড়ো মাপের কর্মসূচিতেও সেই কাশ্মীরি আর উর্দু ভাষাতেই যাবতীয় কাজকর্ম চলে। "এখন অবশ্য আমাদের দল এহেন মনোভাব একটু পাল্টাতে পেরেছে, মাতৃভাষায় এসব অনুষ্ঠান করা বা অনুষ্ঠানে লোকগান-কবিতার পরিবেশন রাখার চেষ্টা করছে," সংযোজন তাঁর।
*****
"তোমরা কেউ জানো চৌক কাকে বলে?" তারিক পারভেজ লোন প্রশ্নটা ছোঁড়েন নিজের দশ ক্লাসের পড়ুয়াদের দিকে। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে মাস্টারমশাইয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে তারা। "সেটা কী স্যার? কেমন দেখতে?" ওয়ানপোরা সরকারি স্কুলের এক কৌতূহলী ছাত্রের ফিরতি জিজ্ঞাসা। হেডমাস্টারমশাই পারভেজ সাহেব এবার বোর্ডে একটা অচেনা বস্তুর ছবি আঁকতে শুরু করেন, পড়ুয়াদের বুঝিয়ে দেন, "এ হল গিয়ে তাঁত। আমাদের গুরুজনেরা আগে এই দিয়ে পশমের কাপড়জামা বানাতেন।"
পড়াশোনা চলতে থাকে। পারভেজ সাহেব এইবার একটা লাটিম আঁকেন বোর্ডে। "এটাকে শিনা ভাষায় কী বলে বলো তো?" জানতে চান তিনি। এক পড়ুয়া সোৎসাহে বলে ওঠে 'লাট্টু', কাশ্মীরি ভাষায় যে নামে লাটিমকে ডাকা হয় আরকি। বাকি ক্লাস একেবারে নিঃশব্দ। অগত্যা ফের মাস্টারমশাইকেই উত্তর করতে হয়, "একে বলে থুরকাইটি।"
পড়া এগোয়। তিরিশ জনের ক্লাসে একটি মাত্র পড়ুয়া শুধু নিজেদের মাতৃভাষা শিনায় জিনিসপত্রের নাম বললে চিনতে পারে। "এরকম কত আলফাজ আছে," বলেন মাস্টারমশাই, "আমরা অন্য নানান ভাষাতে এখন নিজেদের খাপ খাওয়াতে চাইছি বলে সেসব আমাদের নিত্যিদিনের বুলি থেকে হারিয়ে যেতে বসেছে।"

Muzamil Bhat
গুরেজের বাচ্চাদেরকেও যখন ঘর ছেড়ে চলে যেতে হয়, ইস্কুলে প্রতিদিনের কথাবার্তা চালাতে উর্দু আর কাশ্মীরি জবানই রপ্ত করা ছাড়া উপায় থাকে না তাদের। তার ওপর, বেশিরভাগ বাচ্চা হিন্দি আর ইংরেজিও শিখে নেয় শেষমেশ।
তারিক সাহেব বলেন, "যে বাচ্চাটা বছরের বারো মাসই গুরেজে কাটায়, তার কিন্তু এ ভাষায় কথা বলতে কোনও অসুবিধেই হবে না।" কিন্তু আর যারা কাজ, পড়াশোনা কিংবা অসুখবিসুখ আর জলহাওয়ার সমস্যার জন্য বাইরে যায়, গড়গড়িয়ে মাতৃভাষা বলতে মাঝেমাঝেই যথেষ্ট বেগ পেতে হয় তাদের।
তারিকের কথা শুনতে শুনতে তাঁর সহকর্মী আরেক শিক্ষিকা টুক করে মন্তব্য করেন এবার, "আমার ছোটো মেয়েটা নিজে নিজেই উর্দু শিখে গেছে জানেন, ফোন দেখ দেখ কর [ফোনে (ভিডিও) দেখে দেখে)]।" তিনি মেয়েকে ওই ভাষা শেখাননি। কিন্তু যেই না শিনা শেখানোর চেষ্টা করেছেন, বাচ্চাটি তখন আর বিশেষ আগ্রহ দেখায়নি। সবে এক বছর হল ধীরে ধীরে ভাষাটা আয়ত্তে আসছে তার। শিক্ষিকার বড়ো মেয়েটি কিন্তু দিব্যি শিনা বলতে পারে, তার প্রথম স্কুল শুরুর পর সেখানে মাতৃভাষাতেই পড়াশোনা চলত কিনা!
তারিক সাহেব বেশ বোঝেন, বাড়িতে আর হাটেবাজারে এ জবানে কথাবার্তা চালু রাখলে তবেই একমাত্র ভাষাটাকে বাঁচানো সম্ভব। জানান, কাশ্মীরি আর উর্দু শেখার বিপক্ষে নন তিনি, গুরেজের বাইরে গিয়ে কাশ্মীরের অন্যান্য জায়গার বাচ্চাদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার দরকার পড়লে তো এই দুটো ভাষাই কাজে আসবে। "কিন্তু নিজের ভাষা ভুলে যাওয়া মানে তো নিজের পরিচয়টাই ভুলে যাওয়া," আবেগের সুর লাগে তাঁর কথায়।
কিন্তু এ সম্প্রদায়ের বহু পড়ুয়াই নিজেদের দর্দিক পরিচয় প্রকাশ করার ব্যাপারে কুণ্ঠা বোধ করেন। তাঁদের ভয় হয়, লোকে যদি তাঁদের "দর্দে" (এ সম্প্রদায়ের মানুষদের বিদ্বেষভরে এই নামে ডাকা হয়) বলে ক্ষ্যাপায়!

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
*****
এককালে কাশ্মীরবাসীদের জন্য রেশম পথ হিসেবে কাজ করত গুরেজ উপত্যকা, ব্যবসাবাণিজ্য বা তীর্থযাত্রার জন্য বান্ডিপুর থেকে গুরেজ হয়ে গিলগিত যেত লোকে। হজযাত্রীরাও এই পথই ব্যবহার করতেন।
গুরেজ আর দ্রাসের দর্দ-শিন জনজাতির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত ইতিহাস আছে। তার শেকড়সন্ধানে পৌঁছে যেতে হয় দর্দিস্তানে, এই ঐতিহাসিক অঞ্চলটি কাশ্মীর উপত্যকা থেকে গিলগিত ও আফগানিস্তান অব্দি বিস্তৃত ছিল একসময়। কাশ্মীরি আর দর্দদের সম্পর্ক যে ১৯৪৭-এর দেশভাগ পেরিয়ে অতীতের আরও গভীরে, সেকথাই বুঝিয়ে বলেন মাসুদ আল হাসান সামুন। "পার্টিশন তো কাল কি বাত হ্যায় [পার্টিশন তো এই গতকালের কথা]। শতকের পর শতক ধরে জম্মু-কাশ্মীরে বাস করে আসছে দর্দেরা," জানান জম্মু-কাশ্মীর সরকারের পূর্বতন শিক্ষানির্দেশক তিয়াত্তর বছর বয়সি মাসুদ সাহেব।
দ্বাদশ শতকের কাশ্মীরি ঐতিহাসিক কলহন গুরেজের দর্দদের কথা উল্লেখ করে গেছেন তাঁর রাজতরঙ্গিনী রচনায়, সংস্কৃত ভাষায় রচিত কাশ্মীরের রাজশাসনের অনুক্রমিক কাব্যবিবরণী এ গ্রন্থ। মাসুদ সাহেব জানান, গুরেজের রাজাদের সঙ্গে উপত্যকার শাসকদের যুদ্ধবিগ্রহ লেগেই থাকত। এর মধ্যে একটা উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ হয় দুদকঠ পাহাড়ে, যাতে যুযুধান দুই প্রতিপক্ষ ছিল দর্দ বাহিনী ও রাজা হর্ষ (ভারতের রাজা হর্ষবর্ধন নন)।
নিজস্ব কোনও লিপি না থাকায় মৌখিক পরম্পরা, লোককথা আর লোকগানের সৌজন্যেই টিকে ছিল এ ভাষা। কিন্তু দশকের পর দশক ধরে মরসুমি অভিবাসন, সীমান্তে গোলাবিনিময় আর এ অঞ্চলের রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক অস্থিরতা এই সম্প্রদায়ের মানুষজনকে নিজেদের মাতৃভাষা থেকে আরও দূরে সরিয়ে দিচ্ছে ক্রমশ।
"শ্রীনগর গিয়ে যদি দেখেন পঞ্চাশটা বাড়ির মধ্যে কেবল একটা বাড়িই শিনা জবানে কথা বলে, কীভাবে ভাষাটা বাঁচবে বলতে পারেন?" তাঁর সম্প্রদায়ের বাচ্চারা অন্য বাচ্চাদের সঙ্গে কাশ্মীরি বা উভয়েরই জানা কোনও ভাষাতে কথা বলে। মাসুদ সাহেবের আশঙ্কা, এই করে হয়ত আর একটা প্রজন্ম মাতৃভাষাটুকু বলতে পারবে, কিন্তু তার পরের প্রজন্মের কাছে এ ভাষা জিন্দা থাকবে না আর।
উত্তর কাশ্মীরের বান্ডিপুরের বাসিন্দা মাসুদ সাহেব সম্প্রতি একটা সমন্বিত শিনা লিপি তৈরির কাজ করছেন। "এখনও পর্যন্ত শিনা ভাষার দুটো লিপি তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে একটা আছে রোমানে, তৈরি করেছেন জর্জ আব্রাহাম গ্রিয়ারসন। আরেক লিপিকার হলেন পাকিস্তানের গিলগিতের জেলা শিক্ষা আধিকারিক ডক্টর সুজা নামুস। উর্দুতে নাস্তালিক লিপি ব্যবহার করে জিনিসটা বানিয়েছিলেন তিনি, নাম ছিল গিলগিত অউর শিনা জবান।"
দু'ক্ষেত্রেই, নথিবদ্ধ করার কাজটা শুধু লিপিকারদের গবেষণাভিত্তিক ছিল। গ্রিয়ারসন বা ডক্টর নামুস কেউই শিনা ভাষাভাষী মানুষ না হওয়ার দরুণ ধ্বনিতত্ত্ব বিষয়ক নানান খুঁটিনাটি নিখুঁত ভাবে ধরা পড়েনি।
মাসুদ জানান, শিনায় চারটে একেবারে স্বতন্ত্র ব্যঞ্জনধ্বনি আছে, "যো ডাঁয়ে-বাঁয়ে কি কিসি ল্যাঙ্গুয়েজ মেঁ নহি হ্যায় [যেরকমটা আশেপাশের কোনও ভাষায় নেই], উর্দু বা ফারসির কথা তো ছেড়েই দিন, কাশ্মীরিতে অব্দি এমন দেখা যায় না।" সুতরাং একেবারে নিজস্ব কিছু চিহ্ন দরকার ছিল এ ভাষায়, কিন্তু কেউই সেসব আনতে পারেননি। তিনি একথাও জানান যে, পরে, পাকিস্তানের কারাকোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মহম্মদ আমিন জিয়া এ ভাষার ব্যাকরণ আর নিয়মকানুনগুলো লিখেছিলেন, তখন সদ্য সদ্য কম্পিউটার এসেছে। কিন্তু তাঁর সে কাজেরও মূল বিষয় লিপি ছিল না।
মাসুদ সাহেবের সঙ্গে একমত হন তারিক পারভেজও। "লিপিই যদি না থাকে, ভাষাটা লিখবই বা কি করে, পড়াবই বা কি? শিনা ব্যাকরণের বইটা প্রকাশ পাওয়ার পর, সম্প্রদায়ের অনেকে একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ অব্দি খুলে ফেলেছিল। লাভের লাভ কিছুই হল না, " সংযোজন তাঁর।
ফরিদ সাহেবও বুঝিয়ে দেন গুরুত্বটা, "একটা ঠিকঠাক লিপি পেলে খুব উপকার হবে। শিনা সাহিত্যের বেশিরভাগটাই এখনও উর্দুতে লেখা কিনা।" একটা নতুন লিপি আনা গেলে বাচ্চারা তাদের মাতৃভাষার সঙ্গে একাত্মবোধ করবে আরও। তিনি বলেন, "যখন আমাদের ছেলেপুলেরা কাশ্মীর থেকে রাশিয়া কী জার্মানির মতো দেশে যায়, আমরা তো ওদের ওসব বিদেশী বুলি শেখাই না। শেখাই কি? ওখান থেকেই তো শেখে।"

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
মাসুদ সাহেব জোরগলায় বলেন, ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখার একটা প্রাথমিক অবলম্বন হচ্ছে সাহিত্য। যেমনটা করেছে লাল দেদ, শেখ-উল-আলম (নুন্দ ঋষি বলেও পরিচিত) বা মধ্য ও আধুনিক যুগের আরও বেশ কিছু কবির কবিতা – কাশ্মীরি সাহিত্যের উদাহরণ দিয়ে তিনি ব্যাপারটা বুঝিয়ে দেন। বলেন, আজও অনেক গদ্য-পদ্য লেখা হয় কাশ্মীরিতে, যা আগামীদিনে ভাষাটাকে বেঁচে থাকার রসদ জোগাবে, "কিন্তু শিনার ক্ষেত্রে তো এমনটা বলা যায় না।"
মাসুদ সাহেবের ক্ষেত্রে, শিনা ভাষার স্বতন্ত্র লিপি তৈরির যাত্রাটা শুরু হয় সেই ১৯৭৫ সালে। কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ে তখন একটা পূর্ণসময়ের চাকরি ছিল তাঁর, পড়াতেন উর্দু আর ফারসি। "লোককথা আর গান সংগ্রহ করতাম তখন," কিন্তু মাঝেমাঝেই খুব অবাক হয়ে ভাবতেন, "এগুলো লেখে কী করে!"
পরে যখন শিক্ষানির্দেশকের পদে আসেন, জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যে নতুন এক শিক্ষানীতি ঘোষিত হয় সেবার – চতুর্থ শ্রেণি থেকে মাতৃভাষাই হবে পঠন-পাঠনের মাধ্যম। তিনি বলেন, "বুঝলাম, একটা লিপি চালু করার জন্য এর চাইতে ভালো সময় আর হতে পারে না।" সেইমতো কম্পিউটারেও ব্যাপারটা তুলে নেওয়ার বন্দোবস্ত করেন।
একটা গোটা লিপি রচনার চেষ্টা করেছিলেন তিনি, লিখেছিলেন প্রাইমারও। কিন্তু তারপরেই চাকরি ছাড়তে হয় তাঁকে, "সবকিছু কীরকম লন্ডভন্ড হয়ে গেছিল," আর কোনওদিন লিপিটা প্রকাশও করে উঠতে পারেননি তারপর। অবসর নেওয়ার পরে ফের সেই উদ্যোগটা কাঁধে তুলে নেন তিনি।

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
লিপিটাকে প্রামাণ্য করে তোলার হাজাররকম চেষ্টার পর শেষমেশ তাঁর লেখা পাঠ্যবই পুমিকি শিনা কিতাব চতুর্থ শ্রেণির পড়ুয়াদের জন্য ছাপা হয়। যদিও তখনও, শিনা ভাষাকে ঐচ্ছিক বিষয়ের দলে রাখা হয়েছিল। "তারপর পুরোদস্তুর ভাষাকর্মী হয়ে উঠি, অন্তত আমার অঞ্চলে লিপিটাকে প্রামাণ্য করা গেছে এখন," তৃপ্ত কণ্ঠে বলেন তিনি। সম্প্রতি এই মাতৃভাষাটিকে নথিবদ্ধ করার আরও বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রীনগরের কাশ্মীর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাতত্ত্ব বিভাগ শিনা ব্যাকরণের ওপর আরও একটা বই প্রকাশ করেছে।
মাসুদ সাহেবের মতে যদ্দিন না লিপিটা সর্বত্র প্রামাণ্য হচ্ছে, প্রাথমিক স্তরে অন্তত ক্লাস টেন পর্যন্ত পঠনপাঠনের মাধ্যম হিসেবে শিনাকেই রাখা হলে, সেই সুবাদে আরও বেশিদিন টিকবে ভাষাটা। সমস্যাগুলো বুঝিয়ে তিনি বলেন – যদিও বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে উচ্চতর শিক্ষা বা রসায়ন-পদার্থবিদ্যার মতো পরিভাষানির্ভর পড়াশোনার ক্ষেত্রে এ ভাষাকে মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা অসম্ভব, তবু ব্যাপারটা যত তাড়াতাড়ি করা যায় ততই ভালো। "নয়তো, এ জবানকে আর বাঁচানো যাবে না।"
চাকরি জীবনে তাঁর গুরেজে কাটানো দিনগুলোর এক টুকরো অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন তিনি। দপ্তরে নিজের সম্প্রদায়ের কেউ কাশ্মীরি বা উর্দুতে তাঁর সঙ্গে কথা বললেই, "কড়া বকুনি লাগাতাম। বলতাম, আমি তো আপনার সঙ্গে শিনাতেই কথা বলছি। আপনারও তো তাহলে তাই বলা উচিত!"
তাঁর সে অভ্যেস আজও খানিক বর্তমান। প্রশ্ন ছোঁড়েন, "আচ্ছা, বাড়ির লোকের সঙ্গে কথা বলতে গেলেও আপনারা ইংরেজিতে কথা বলবেন নাকি? একটা ফরাসি লোককে দেখান দিকি, যে বাড়িতেও ইংরেজি বলে। শুধু আমাদের ভারতীয়দেরই এই আংরেজি কী গুলামির বিমারি আছে।"
তাঁর অভিযোগ একটা নয়। বলেন, এইযে আজকালকার বাচ্চারা সবকিছু ইংরেজিতে শেখে, ওদের মানসিক বৃত্তিগুলো একটা বিদেশি ভাষা নিয়ে ঘষটাতে ঘষটাতে নাকাল হয়ে যায়। "যেন আংরেজরাই সব বুদ্ধি ধরে! আমরা হিন্দুস্তানিরা কি বেকুব নাকি? সেটা তো নিশ্চয়ই নয়। কিন্তু এই বিদেশি ভাষার পেছনে ছুটে ছুটে আমাদের [ভারতীয়] জবানগুলোর যে বাড়বৃদ্ধি হচ্ছে না কিছু!" বিরক্তিটা গোপন করেন না তিনি।

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat

Muzamil Bhat
২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতিতে (এনইপি) প্রস্তাব করা হয়েছে যে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ুয়ার মাতৃভাষাকেই পঠনপাঠনের মাধ্যম হিসেবে রাখতে হবে। "আজ পর্যন্ত ভারতের শিক্ষাক্ষেত্রে এত বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত বোধহয় আর দুটো নেওয়া হয়নি। কিন্তু কাজটায় ঝক্কি অনেক হবে," বোঝেন মাসুদ সাহেব।
শিক্ষাপর্ষদ থেকে প্রথম শ্রেণির কাশ্মীরি আর ডোগরি পাঠ্যবইয়ের ক্ষেত্রে নিয়মটা ইতিমধ্যেই বলবৎ করা হয়েছে। তিনি বলেন, শিনা ভাষায় তাঁর লেখা পাঠ্যবইটা কবে প্রকাশ পাবে সেই অপেক্ষায় আছেন এখন। প্রায় এক বছর তো হতে চলল পাঠিয়েছেন।
তদ্দিন, নিজের বাকি কর্মীবন্ধুদের সঙ্গে মিলে শিনা লিপিটাকে প্রামাণ্য করে তোলার চেষ্টায় আছেন বরিষ্ঠ এই ভাষাপ্রেমী, "কিন্তু খুব শিগগিরই যে কাজ শেষ হবে এ ভরসা দিতে পারি না। অনেক অনেক কাজ করতে হবে। ভয় করে, বুড়ো হয়ে যাচ্ছি যে," এক নাছোড় একাগ্রতা ছায়া ফেলে যায় তাঁর চোখে।
এই লেখাটিতে সহযোগিতার জন্য মাসুদ আল হাসান সামুন, বশির আহমদ তেরু, ফরিদ আহমদ লোন এবং আবরার-উল-আলমকে ধন্যবাদ জানাতে চান প্রতিবেদক।
গুলাম রসুল মুস্তাকের শিনা কবিতাটি ব্যাখ্যা করেছেন ফরিদ সাহেব এবং ইংরেজি অনুবাদ করেছেন প্রতিষ্ঠা পান্ডিয়া। মাসুদ আল হাসান সামুনের কবিতাটি ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন মুজামিল ভট ও প্রতিষ্ঠা পান্ডিয়া।
পারি’র বিপন্ন ভাষা প্রকল্প (ইএলপি) আজিম প্রেমজি বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বারা সহায়তাপ্রাপ্ত একটি উদ্যোগের অঙ্গ। আমাদের লক্ষ্য, আমজনতার বয়ানে তাঁদের যাপিত অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ভারতের সংকটাপন্ন ভাষাসমূহের দস্তাবেজিকরণ।
এইপ্রতিবেদনটি পারি সিনিয়র ফেলোশিপ ২০২৫-এর সহায়তায় রচিত।
অনুবাদ: রম্যাণি ব্যানার্জী
Want to republish this article? Please write to [email protected] with a cc to [email protected]
All donors will be entitled to tax exemptions under Section-80G of the Income Tax Act. Please double check your email address before submitting.
PARI - People's Archive of Rural India
ruralindiaonline.org
https://ruralindiaonline.org/articles/in-gurez-home-is-not-where-the-word-is-bn