আরেকটু দক্ষিণে হাঁটলেই কালিন্দী কুঞ্জ ঘাট, এখানে এসে নদী অনেকখানি চওড়া হয়ে যায়, আর বাতাস ভারি হয়ে ওঠে রাসায়নিক পূতিগন্ধে। নদীবক্ষে ভাসমান ঘন সাদাটে ফেনা, আর নিঃশ্বাস ভরা তীব্র যন্ত্রণা।
এখানে এলে দেখবেন, বিচিত্র এক সেবায় মগ্ন ২১ বছর বয়সি ফিরোজ মালিক। চিতার শেষে পড়ে থাকা মানবাস্থি যমুনার জলে ভাসিয়ে দেন তিনি — যদিও নদীর পানি ইতিমধ্যেই জঞ্জালে ভারাক্রান্ত। ফিরোজের জবানে: “পানির নিচে বেশিক্ষণ শ্বাস ধরে রাখতে পারি না, কেউ যদি তলায় গিয়ে আটকে পড়ে [অনেক্ষণ ধরে], সে আর বেঁচে ফিরবে না।” তা সত্ত্বেও এই দূষিত জলের তলায় ডুব দেওয়া তাঁর রোজকার অভ্যেস।
দিল্লির মাঝে কয়েকটা জায়গাতেই যমুনা টিমটিম করে বেঁচে আছে, স্রোতস্বিনী নিজে দমবদ্ধ হয়ে মরতে বসেছে। আর একই ভাবে শ্বাস আটকে গিয়েছে বানারসি ও ফিরোজের মতো ডুবুরিদের, যাঁদের দিনমজুরির সহায় এই দূষণে বিপন্ন যমুনা।
নীরবে শতসহস্র যন্ত্রণা সইছে “মা যমনা” আর তার হতভাগ্য সন্তানেরা। ডুবতে বসা মানুষকে বাঁচানো হোক বা জলে ডুবে যাওয়া লাশ উদ্ধার — এই রাসায়নিকে ভরা জলধারায় না ঝাঁপিয়ে যে উপায় নেই ডুবুরিদের। দিনভর এই হিসেব না মেলা অঙ্কের সাক্ষী থাকেন অভিনন্দন যাদবের মতন পাটনীরা: ভক্তের দল নদীমাতার উপাসনা শেষে সেই নদীকেই কেমন ভরিয়ে তোলে বর্জ্যে। এঁরাই তো যমুনার সন্তানসন্ততি, যুগ যুগ ধরে লাঞ্ছিত নদীর নাথ — পানির পাড় থেকে তাঁরা দেখতে থাকেন, কেমনভাবে যমুনার যাপনে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় সর্বনাশ ও সহিষ্ণুতার সাতকাহন।
অনুবাদ: জশুয়া বোধিনেত্র