দারুণ ব্যবসা বটে!
- ১৯৭০ সালে খনি তৈরির জন্য গন্ধমার্দন ব্লক বি-এর ইজারা দেওয়া হয়েছিল ওড়িশা মাইনিং কর্পোরেশন (ওএমসি)-কে।
- ২০১৩ সালে শাহ কমিশন সেই খনিতে বিভিন্ন অবৈধ কার্যকলাপ চলার অভিযোগ তোলে, যার মধ্যে ২০০০ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে বনবিভাগের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়াই ১২ লক্ষ টনেরও বেশি আকরিক উত্তোলনও ছিল। বন অপরাধ সংক্রান্ত দুটো মামলা এখনও কেওনঝড় জেলা আদালতে বিচারাধীন।
- ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে খোদ রাজ্য সরকার ওএমসি-র হয়ে বনভূমির ছাড়পত্রের আবেদন করে, লক্ষ্য ছিল ১,৫৯০ হেক্টর এলাকা জুড়ে আকরিক উৎপাদনের পরিমাণ বাড়িয়ে বার্ষিক ৯২ লক্ষ টনে নিয়ে যাওয়া। আর এই এলাকার মধ্যেই পড়ে সাত-সাতটা আদিবাসী গ্রাম জুড়ে বিস্তৃত ১,৪০০ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি।
- ওএমসি-র হিসেব মতো, এই আকরিকের বার্ষিক বিক্রয়মূল্য গিয়ে দাঁড়ানোর কথা ২,৪১৬ কোটি টাকায়। সংস্থাটি আগামী ৩৩ বছরে এই এলাকা থেকে মোট ৩০ কোটি টন আকরিক উত্তোলনের প্রস্তাবও রেখেছে।
- বনভূমি ছাড়পত্রের প্রস্তাবটা পরিবেশ ও বন মন্ত্রক এখনও বিবেচনা করে দেখছে।
উৎস: অবৈধ খনন নিয়ে বিচারপতি এমবি শাহ কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট এবং গন্ধমার্দন ব্লক বি-এর জন্য দাখিল হওয়া বনভূমি ছাড়পত্র।
“এই দেখুন, আমি এইভাবে সই করি। ওড়িয়া ভাষায়। বাপের জন্মে কোনওদিন ইংরেজি পড়িইনি। তাহলে বলুন, আমি কেমন করে ইংরেজিতে সই করব?” নিজের সাইকেলটা থেকে নামতে নামতে অবাক গলায় বললেন উরুমুন্ডা গাঁয়ের গোপীনাথ নায়েক।
নিজের গ্রামের জঙ্গল অধিকার কমিটির সদস্য গোপীনাথ একটু আগেই একখানা কাগজে ইংরেজিতে তাঁর নামের সই দেখেছেন, যেটা নাকি তাঁর স্বাক্ষর! আর কাগজটায় যা লেখা আছে, সেটাও নাকি তাঁদের গ্রামের গ্রামসভার সিদ্ধান্ত, যার শেষে সম্মতিসূচক সই রয়েছে গোপীনাথের!
লিখিত সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, উরুমুন্ডা গ্রামের বাসিন্দারা নাকি ৮৫৩ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি স্বেচ্ছায় ওড়িশা মাইনিং কর্পোরেশন (ওএমসি)-র হাতে তুলে দিতে রাজি হয়েছেন! শুধু তাঁরাই একা নন, ওড়িশা সরকার আর ওএমসি-র বনভূমি ছাড়পত্রের আবেদনের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে হুবহু একই রকমের সাতখানা গ্রামসভার সিদ্ধান্ত জমা পড়েছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রকের দফতরে।













