গোয়ায় এসে আমার বহুদিনের ঘড়ি না-পরার অভ্যাসেরই জিত হল। কিছুই ঠিক সময়ে শুরু হয় না এখানে। বাসগুলোও টাইমটেবিল অনুযায়ী চলে না। তাই গোলমাল হয় না তেমন। পাঞ্জিম থেকে পোন্ডা ৩০ কিলোমিটার রাস্তা, ভিড়ে ঠাসা সরকারি বাসের রেলিং ধরে ঘুমিয়ে দেড় ঘণ্টা কাটিয়ে আখেরে লাভই হল আমার। বাড়তি উৎসাহ নিয়ে ঢুকে পড়লাম নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ঢের দেরিতে শুরু হওয়া পোন্ডার শিগমো উৎসবে।
এই রাজ্যের পর্তুগিজ শাসনের ইতিহাস দীর্ঘ ৪৫০ বছরের। সংস্কৃতিতে তার ছাপ রয়ে গেছে ‘কার্নিভাল’-এর প্রথার মধ্যে। এই কার্নিভালেরই হিন্দু সংস্করণ শিগমোৎসব বা ‘হিন্দু কার্নিভাল’। এখানের এই লোক-উৎসব আর উত্তর ভারতের হোলি একই সময়ে পালিত হয়। দু সপ্তাহ ধরে চলে শিগমোৎসব। শীত এবং ফসল কাটার মরসুমের শেষে বসন্তকে অভ্যর্থনা জানানো হয় এর মধ্য দিয়ে। শিগমো গ্রামীণ উৎসব হলেও গত ৩০ বছর ধরে রাজ্য সরকার নানা ফ্লোট ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে যাতে পাঞ্জিম বা শিগমোর মতো শহর আরও পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। প্রচলিত গীতের জায়গায় সেখানে এখন বেশি শোনা যায় চলতি গানের জনপ্রিয় সুর। তা সত্ত্বেও কার্নিভালের মতো সহায়তা পায়নি শিগমো। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, কার্নিভালের মধ্যে পাশ্চাত্য সংস্কৃতির স্পষ্ট ছাপ থাকায় গোয়ার বিদেশি পর্যটকদের কাছে সেটিকেই বেশি তুলে ধরা হয়েছে। অবশ্য স্থানীয় মানুষদের সাদামাটা জীবনে এই একটি দিনের উদযাপনের ব্যক্তিগত মূল্য আছে। তাঁদের জীবনযাত্রার অংশ এটি। কার্নিভালের চেয়ে শিগমোর প্যারেড ও তার পোশাকআশাক, চাষের সরঞ্জাম, বাদ্যযন্ত্র ও নাচ এখনো অনেকাংশেই প্রচলিত রীতির অনুগামী, ব্যবসায়িক অনুদান ছাড়াই চলে। বাইরের হম্বিতম্বির হাত এড়িয়ে খোলামেলা উদযাপনের এক গ্রামীণ সংস্কৃতির ভিত এখনো তাই অটুট। কার্নিভালের সঙ্গে আর একটা তফাত হল, শিগমোতে অংশ নেন কেবল পুরুষরাই।











