জাঁতাপেষাইয়ের গান প্রকল্পে উদযাপিত হচ্ছে আম্বেদকর জয়ন্তী। সঙ্গের ভিডিওটিতে নন্দগাঁওয়ের কুসুম সোনাওয়ানে সহ অন্যান্য মহিলাদের মাহাড় সত্যাগ্রহ ঘিরে ১৪টি ওভি গাইতে শোনা যাবে


Pune, Maharashtra
|FRI, APR 25, 2025
জল-জমিনের হকটা পাবি, চলরে সখী চওদার যাবি?
Author
Photos and Video
Editor
Translator
চওদার তালাওয়ের ঘাটে...ডুবিয়ে আঙুল চার, পানি পানি অধিকার এইটুকু নিতে হবে কেড়ে।
চওদার তালাওয়ের পাটে...জমেছে বেজায় ভিড়, নত নহে কোনও শির নারী আর শিশুদের তরে।
২০ মার্চ, ১৯২৭: তৎকালীন বম্বে প্রদেশের কোলাবা জেলা, মাহাড় গাঁয়ের চওদার তালের (তালাও বা পুকুর) জল পান করলেন বাবাসাহেব আম্বেদকর — তাঁর নেতৃত্বে ওই একই জিনিস করে বসলেন প্রায় তিন হাজার মানুষ। তথাকথিত উচ্চবর্ণের আদেশে দলিত সমাজের মানুষজন জনসাধারণের কোনও জলাশয়ের পানি খেতে পারতেন না, আর সেদিন ড. আম্বেদকরের হাতে এভাবেই চিরতরে ভেঙে খানখান হয়ে গেল হাজার হাজার বছর পুরোনো সে সামাজিক কুপ্রথা।
২০ মার্চ ২০১৮: দুই জজসাহেব আদর্শ কুমার গোয়েল এবং উদয় উমেশ ললিত মিলে এই আদেশটি জারি করেন: তফসিলি জাতি ও তফসিলি জনজাতি (নৃশংসতা প্রতিরোধ) আইন ১৯৮৯এর আওতায় কোনও সরকারি কর্মচারির বিরুদ্ধে যদি কেউ অভিযোগ দায়ের করেন, তাহলে যতক্ষণ না কোনও বরিষ্ঠ আধিকারিক তদন্ত করছেন তথা উক্ত নালিশটি অনুমোদন করছেন, ততক্ষণ সেই সরকারি কর্মচারিটিকে গ্রেফতার করা যাবে না। এই আদেশ জারি হতেই সমগ্র ভারত জুড়ে দলিত ও আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজন ব্যাপক আন্দোলনে নামেন; কারণ যে আইন তাঁদের নিরাপত্তার অন্যতম সহায়, সেটি এই আদেশের দ্বারা দূর্বল হয়ে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
২০ মার্চ ২০১৮: পুণে জেলার মুলশি তালুকের নন্দগাঁও গ্রামে, গ্রাইন্ডমিল সং-এর অন্যতম পরিবেশক কুসুম সোনাওয়ানে তাঁর সাথীদের সঙ্গে ফিরে এলেন যে যাঁর নিজগৃহে। “এবছর আর চওদার তালে পৌঁছতে পারলাম না,” কুসুম সোনাওয়ানে বুঝিয়ে বললেন, “মাহাড় যাওয়ার পথে মাঝরাস্তায় আমাদের গাড়ি খারাপ হয়ে যায়, তারপর তো বড্ড দেরি হয়ে গেল, তাই রাজ্য সরকারি একখান বাসে চেপে আমরা বাড়ি ফিরে এলাম।”
ফি বছর ২০শে মার্চ নন্দগাঁও থেকে একটা দল মাহাড় রওনা দেয়। লক্ষ্য একটাই, দলিত সমাজের জনজীবনে ঘটা মহান সেই ঐতিহাসিক ঘটনাটির উদযাপন। ড. আম্বেদকরের মূর্তিতে মাল্যদান করে শুরু হয় দিন, তারপর চওদার তালাওয়ের জল খেয়ে তাঁরা ১৯২৭ সালের পুনরাবৃত্তি করেন।
সন ১৯২৪-এর ৫ জানুয়ারি মাহাড় পৌরসভা একটি আইন পাশ করে, যার দ্বারা 'অচ্ছুৎ বর্গ' সহ প্রত্যেকটি জাতিবর্ণের জন্য সমস্ত সুযোগ-সুবিধা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। তবে আইনটা কেবল খাতায়-কলমেই রয়ে গিয়েছিল, যতক্ষণ না বাবাসাহেব আম্বেদকর এসে হাজির হন সেখানে।

Samyukta Shastri
তাঁর 'দ্য রিভোল্ট অফ দ্য আনটাচেবলস্' গ্রন্থে ড. আম্বেদকর যেমনটা লিখে গিয়েছেন:
“হিন্দু সামাজিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্পৃশ্যদের যে আন্দোলন, তার ইতিহাস সুদীর্ঘ, বিশেষ করে মহারাষ্ট্রে। এই ইতিহাস দুভাগে বিভক্ত। প্রথম পর্যায়ে ছিল আর্জি ও প্রতিবাদ। দ্বিতীয় পর্যায়ে আসে হিন্দু প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিরুদ্ধে সরাসরি পদক্ষেপের রূপে প্রকাশ্য বিদ্রোহ।
“এমত মনোভাব পরিবর্তনের পিছনে দুটি কারণ বর্তমান। প্রথম কারণ, আবেদন বা প্রতিবাদে যে হিন্দুরা একচুলও টলেনি সেটার উপলব্ধি। দ্বিতীয় কারণ, খোদ সরকার ঘোষণা করে যে প্রত্যেকটা সরকারি সুযোগ-সুবিধা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠান অচ্ছুৎ সহ সকল নাগরিকের জন্য উন্মুক্ত...
“জনসাধারণের জলাশয় থেকে পানি নেওয়ার যে অধিকার, বহুবার তা বাস্তবায়িত করার চেষ্টা হয়েছে, সেসবের মধ্যে থেকে কেবল চওদার ট্যাঙ্কের কথা উল্লেখ করাই যথেষ্ট।”

Samyukta Shastri

Samyukta Shastri
প্রথম দোহায় জঙ্গল ভেদ করে ধোঁয়া উড়িয়ে বীরবিক্রমে ছুটে চলেছে রেলগাড়ি। রামজির ছেলে ভীম যে চওদার তালাওয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, এ যেন তারই ঘোষণা। দ্বিতীয় ওভিতে গায়কবৃন্দ বলছেন, ট্রেনের প্রতিটি বগিতে সারি সারি জ্বলন্ত মোমবাতি আর কেউ নয়, তাঁদের বোনেরা যাঁরা ট্যাঙ্কিতে (মাহাড় শহরে) গিয়েছেন। গায়ক আরেক মেয়েকে সম্বোধন করে বলছেন, “চল্ মেয়ে, যাবি নাকি চওদার তালাওয়ে? ভীমাইসূতের পাশে থাকব যে দাঁড়ায়ে।” চওদার পুকুরের জলে চারটে আঙুল ডুবিয়ে অনুপম এক আনন্দে মেতে উঠছেন তাঁরা, যেন রূপান্তরের অনুভূতি। সে যাবৎ যে পানি ছিল তাঁদের ধরাছোঁয়ার বাইরে, সেটা ছুঁতে পেরে তাঁদের আর নিজেকে 'অস্পৃশ্য' মনে হচ্ছে না।
গায়ক বলছেন যে রামজির ছেলে ভীমরাও আম্বেদকরের সাহস অপরিসীম। পঞ্চম দোহায় তিনি জানাচ্ছেন, পুকুরের জলের উপর নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে ভিড় জমা হয়েছে। পরবর্তী ওভিতে আমরা দেখতে পাচ্ছি সেখানে একটি ফুলবাগিচা রয়েছে, গায়ক বলছেন যে এখানেই সংঘটিত হয়েছিল বাবাসাহেবের সত্যাগ্রহ।
চওদার তালের জলপান ছিল দলিতদের হৃদয়ে অনুভূত সাম্যের প্রতীক, গানের পরবর্তী পংক্তি একথাই বলছে — যে ভীমাইয়ের সন্তান ভীমরাও সেখানে “বানাইলো এক বাংলো”।
পরের পাঁচটি দোহা, অর্থাৎ অষ্টম থেকে পঞ্চদশ ওভিতে গায়ক তুলে ধরছেন মাহাড় সত্যাগ্রহ চলাকালীন বাবাসাহেব ও তাঁর অনুগামীদের সহ্য করা নিদারুণ কষ্ট ও নির্যাতনের দাস্তান। দলিতেরা বুক ঠুকে সে তালাওয়ের পানি খেলে তথাকথিত উচ্চবর্ণের গোঁড়া বামুনরা রেগেমেগে তাঁদের মারধর করে। হকের লড়াই করতে গিয়ে ইট-পাটকেলের ঘা খেতে বাধ্য হন আন্দোলনকারীরা। খাওয়ার জন্য চাট্টি বাসি শুকনো ভাকরিও ছিল না, তাও তাঁরা অধিকার ছিনিয়ে নিতে পিছপা হননি। তাঁরা জানতেন যে ভীমরায় (বা ভীমরাজা) তাঁদের পাশে আছে, তাই গাঁয়ে গাঁয়ে ফিরে তাঁরা খবর রটিয়ে দেন।
অন্তিম ওভিতে গায়ক গান গেয়ে জানাচ্ছেন, দিল্লির দরবারে সদর্পে নীল (বহুজন) নিশান উড়িয়েছেন বাবাসাহেব, সেখানে হাজারও নেতামন্ত্রীর মাঝে তিনি জ্বলজ্বল করছেন।
এই ১৪টি ওভি শুনতে ভুলবেন না যেন — হয় উপরের ভিডিওটি দেখুন, কিংবা এই অডিও ক্লিপে গায়কদের শুনুন:
आली आली आगीन गाडी ओरडली जंगलात
रामजीचं भीम बाळ उभं चवदार तळ्यात
आली आली आगीन गाडी डब्या डब्याने मेणबत्त्या
या बहिणी आमच्या साऱ्या चवदार तळ्याला गेल्या होत्या
बाई चवदार तळं, तळं जाऊया पाहायला गं
अशी भिमाई रायाला याला पाठिंबा द्यायला
अशी चवदार तळ्यावरी रंग देती चार बोटं गं
बाई रामजी च्या पुताचं याचं दीर्व्य (धैर्य) किती मोठं
अशी चवदार तळ्यावरी हाक पाण्याच्या घोटासाठी
जमली ती मैफिलं इथं बाया पोरा साठी
अशी चवदार तळ्यावरी आहे फुलांचा तो बाग गं
अशी भिमाई रायानी केला सत्याग्रहाचा त्याग गं
अशी महाडच्या तळ्यावरी पाण्याचा घोट तो रंगला गं
बाई भिमाई रायानी वर बांधला बंगला गं
असा खाईला मार हात पाण्याचा हक्का साठी गं
बाई कर्मठ जात इथं बामनाची मोठी
बाई झाला ना सत्याग्रह दगड गोटा चं खाऊनी
अशी आमच्या हक्का साठी पोरं पोटाशी घेउनी गं
अशी आमच्या जीवनाची आम्ही आशाचं नाही केली
आमच्या भीम रायाला याला साथ चं आम्ही दिली
अशी महाडच्या तळ्यासाठी आम्ही कदर नाही केली
बाया पोरना संगतीला, संग भाकर नव्हती ओली
गावा गावात जाऊइनी आम्ही मीटिंगा कश्या केल्या
पण आमचा भीमराया आमच्या संगतीला आला
यात कर्मठ जातीनी यांनी केलाना दगड फेक
भीमरायाच्या जोरावरी आमचा मिळविला हाक
बाई दिल्लीच्या तख्तावरी निळा झेंडा फडकला
बाई नेत्यामधी नेता भीमराया झळकला
ছুটে আসে রেলগাড়ি ধোঁয়া-টোঁয়া উড়ায়ে, যায় ছুটে রেলগাড়ি জঙ্গল ঠেঙায়ে
কানে আসে ঘোষণা: 'চওদার তালাওয়ে, রামজির বেটা ভীম আছে ঠায় দাঁড়ায়ে'
আইলো গো রেলগাড়ি, প্রত্যেক কামরায় — মোমবাতি জ্বালা আছে আয় তবে দেখে যাই।
মোমবাতি কেহ নয়, আমাদের বোন — যারা যারা হেঁটে গেছে চওদারে শোন।
চল্ মেয়ে, যাবি নাকি চওদার তালাওয়ে?
ভীমাইসূতের পাশে থাকব যে দাঁড়ায়ে।
চওদার তালাওয়ের জলে...ডুবিয়ে আঙুল চার, মনে হয় একাকার হয়ে গেছি বদলের টানে।
সকপাল রামজির ছেলে...বাপ রে সাহস তাঁর, নাহি কূল নাহি পার, সই রে একথা কে না জানে?
চওদার তালাওয়ের ঘাটে...ডুবিয়ে আঙুল চার, পানি পানি অধিকার এইটুকু নিতে হবে কেড়ে।
চওদার তালাওয়ের পাটে...জমেছে বেজায় ভিড়, নত নহে কোনও শির নারী আর শিশুদের তরে।
চওদার পুকুরের পাড়ে...আছে সে বাগিচা জানি ঢাকা ফুলে ফুলে।
চওদার পুকুরের আড়ে...রেখেছে সত্যাগ্রহ ভীমাইয়ের ছেলে।
একফোঁটা জল এতই দামি মাহাড় সরোবরে
ভীমবাবা তাই বানাইলো এক বাংলো তাহার 'পরে।
চাইতে গিয়ে জল পিপাসার একটু অধিকার, মেরেধরে করল মোদের অ্যাইসা পগার পার,
এই মুলুকের পৈতেধারী হোমড়া বামুন জাতি, বড্ড কুটিল বড্ড গোঁড়া — রাখ শুনে রাখ সাথী।
সত্যাগ্রহ করতে গিয়ে পাথর, কাঁকর, ইট — ছুঁড়ল ওরা পরাণ ভরে করতে মোদের টিট,
কিন্তু মোদের হকের লড়াই, রাত হয়েছে ঢের — আড়াল করে রাখব মোরা কোলের শিশুদের।
এ জীবন থেকে মোরা কিছু নাহি চাই
ভীমবাবা চলে, তাঁর পিছু পিছু যাই
নাহি ছিল ভয়ডর, নাহি পিছুটান...মাহাড় তালাও তরে সেই যে লড়াই।
মেয়েবউ, কচিকাঁচা, সক্কলে মিলে...জলে যে চুবিয়ে খাব, বাসি রুটি নাই।
এ গ্রাম সে গ্রাম ঘুরে করি আয়োজন...আয় আয়, সভা হবে, আয় রে এখন।
আমাদের ভীমরাজা সদা ছিল পাশে...আয় আয়, সভা হবে, নীলরঙা ঘাসে।
সবর্ণ বামনারা গোঁড়ামির দায়ে, ছুঁড়ল পাথর, ইট, কাঁকর উড়ায়ে,
আমাদের ভীমরাজা সদা ছিল সাথে, হাসিল করেছি হক হাত রেখে হাতে।
শোন্ রে মেয়ে দিল্লিদেশের সিংহাসনের 'পরে, উড়ল সেথা নীলচে নিশান বুদ্ধবাবার সুরে।
সেথায় ছিল হাজার নেতা, সেই নেতাদের মাঝে, একলা হয়ে সিংহ যেন ভীমরাজা ওই সাজে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: দলিত জাতিসমূহের জন্য এই জল পান নিষিদ্ধ ছিল, যদিও জন্তুজানোয়ারের দল দিব্যি খেতে পারত। তাই জলের জন্য এ সংগ্রাম, যা মাহাড় সত্যাগ্রহ নামে জানা যায়, এর মাহাত্ম্য তথা গুরুত্ব অসীম। একচুমুক জল খাওয়া ছিল প্রতীকী যুদ্ধের রূপক। মানবিক মূল্যবোধ ঘিরে জন্ম নেওয়া এ বিদ্রোহ দেখতে দেখতে দূর-দূরান্তে ছড়িয়ে পড়ে। গায়কের দল বাবাসাহেব আম্বেদকরের 'বাংলো' বলতে যা বলতে চেয়েছেন তার আলংকারিক অর্থ দলিত সমাজের জন্য সমতা কেড়ে আনার তাঁর সর্বব্যাপী সংগ্রাম।

Namita Waikar
পরিবেশক/গায়ক: কুসুম সোনাওয়ানে
গ্রাম: নন্দগাঁও
তালুক: মুলশি
জেলা: পুণে
জাতি: নববৌদ্ধ
বয়স: ৭০
সন্তান: দুটি মেয়ে ও দুটি ছেলে
পেশা: চাষি
তারিখ: এই গীতিগুচ্ছ, আলোকচিত্র ও ভিডিওটি ২৫ মার্চ ২০১৮ সালে রেকর্ড করা হয়েছিল
পোস্টার: সিঞ্চিতা পর্বত
অনুবাদ: জশুয়া বোধিনেত্র
Want to republish this article? Please write to [email protected] with a cc to [email protected]
Donate to PARI
All donors will be entitled to tax exemptions under Section-80G of the Income Tax Act. Please double check your email address before submitting.
PARI - People's Archive of Rural India
ruralindiaonline.org
https://ruralindiaonline.org/articles/fighting-for-water-is-fighting-inequality-bn

