প্রথম কোথায় যে দেখেছিলাম তাঁকে...? হয়তো বা কোনও কেতাবে, অথবা বোকাবাক্সের কোনও এক তথ্যচিত্রে, নাকি অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুঠি উঁচিয়ে ধরা কোনও রাস্তায়। হয়তো সেই নারী আদতে একটা কবিতা… হয়তো বা গায়ে কাঁটা দেওয়া আজাদির স্লোগান তিনি।
শেষ যে কবে তাঁকে দেখেছিলাম, কিছুতেই ঠাহর হয় না।
এই নারী চেহারা আর নাম বদলে কখনও হয়ে ওঠেন কর্মক্ষেত্রের মৌনতা খানখান করা দিন্দিগুলের এক কাপড় শ্রমিক, যাঁর সেলাইয়ের ফোঁড়ে গাঁথা হয় ইউনিয়নের ভিত। কখনও তিনি মাটিতে কাজ করা খেতমজুর যিনি নিজের অধিকার কায়েম করতে ভাড়ার ট্র্যাক্টর চালিয়ে হুব্বালি থেকে বেঙ্গালুরু পৌঁছে যান অনায়াসে। তিনিই আবার দক্ষিণ কেরালায় এক বহুযুগের চেনা কমরেডের রূপে দরজায় দরজায় খুদকুঁড়ো মেগে চলেন যাতে কেউ ভুখাপেট না থাকে। তিনি জানেন বহুরূপীর চাতুর্যে কেমন করে ভোল পাল্টে ফেলতে হয়। একরোখা সাহস, পিছু হটতে না চাওয়ার অদম্য শক্তি সম্বল করে তিনি প্রকট হতে থাকেন বারবার।
আরে! আজ আবারও তাঁকে পেয়েছি খুঁজে। এবার এক দামাল তরুণীর বেশে লাফিয়ে টপকাচ্ছেন ব্যারিকেড, মাটিতে লুটিয়ে পড়া সাথীদের সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়াচ্ছেন। দুর্দম আশার ফলা হয়ে তিনি রুখে দিচ্ছেন ক্ষমতার ব্যধিগ্রস্ত কাঠামোকে।
তাঁর আজন্মকালের অর্জন এই মাটি-হাওয়া-জল। আজাদ যা কিছু – সব তাঁর।


