“কেহর বর্পা থা [মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছিল]”, যিনি বলছিলেন, তাঁর নামটা বেশ চমকপ্রদ - টাইম পাস। “বহুত লাশ জালায়া থা। গিন্তি কে বাহার হো গয়া থা [কত লাশ যে জ্বালিয়েছি সে সময়, গুনে শেষ করা যাবে না।]”
গঙ্গার পাড়ে পাটনার সবথেকে পুরোনো শ্মশান বাঁশ ঘাটেই কাজ করেন টাইম পাস। কোভিড-কালে কাজের কারণেই তাঁর খানিক কদর হয়েছিল। অতিমারি কেটে যাবার পাঁচ বছর পর তিনি আবার ফিরে গেছেন আগের সেই তিমিরেই। পাটনা শহরে আবার তিনি কর্মহীন, অদৃশ্য - ছায়ার মতো।
আজ কাজ আর নিয়মিত রোজগার ছাড়া উঞ্ছবৃত্তি করেই চালিয়ে টাইম পাস যেন বা সার্থকনামা হয়ে উঠেছেন পরিস্থিতির বদান্যতায়।
নামটা কিন্তু ঠিক এইজন্য পড়েনি তাঁর, এটা তাঁর কাকা জুগনু রামের কীর্তি। সানি দেওলের সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরে জুগনু দেখেন ভাইপো হয়েছে তাঁর। বাড়ির মহিলারা প্রসবের সময় অনুপস্থিত থাকা নিয়ে “আলসে” বলে তাঁর পিছনে লাগতে থাকায়, সেই খুনসুটির অনুপ্রেরণাতেই ভাইপোর নাম রেখে দেন তিনি।
“যা কাজ পাই, তাই-ই করি এখন,” জানালেন টাইম পাস। “নর্দমা পরিষ্কার করি, মেট্রোর বাথরুম পরিষ্কার করি, মরে পচতে থাকা শুয়োর-টুওর ফেলে দিই, বেওয়ারিশ লাশ জ্বালাই, জঞ্জাল সংগ্রহ করি,” কাজের নির্ঘণ্ট নেহাত ছোটো নয়।
শহরের মড়া, পচা - গলা আর বেওয়ারিশ ময়লা ফেলার সময়েই ডাক পড়ে টাইম পাস এর মত মানুষগুলির। মড়া পচে গন্ধ বেরোলেই চাই টাইম পাসকে। রেল লাইনে দেহ পড়ে আছে - ডাকো টাইম পাসকেই। তিনি অপেক্ষায় থাকেন ময়না তদন্তের ঘরের সামনে, পুলিশের জিপ এসে তুলে নিয়ে যায়।
কাজে পারদর্শিতার কারণে অবশ্য ডাক পড়ে না তাঁর। তিনি ডোম কিনা, তাই ডাক পড়ে। ডোমরা হলেন গিয়ে মহাদলিত - বিহারের সব থেকে বঞ্চিত সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর একটি। ২০২৩ সালের জাতভিত্তিক সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজ্যের মোট ১৩.১ কোটি মানুষের মাত্র ২,৬৩,৫১২ বা ০.২০ শতাংশ মানুষ এই জনগোষ্ঠীর আওতায় পড়েন।
হিন্দু বর্ণ ব্যবস্থার একেবারে তলানিতে আছেন এই ডোম সামাজের মানুষেরা। উচ্চবর্ণের চাপে জাতিভিত্তিক পেশাতেই তাঁরা আটকে আছেন। মড়া পোড়ানো আর সাফাইকর্ম ছাড়া অন্য কোনও পেশায় নিযুক্তির কোনও সুযোগই জোটে না তাঁদের।

















