বছর তিরিশের প্রভাকর চাভালের জীবন-জীবিকা কাকা শিবাজীর চেয়ে অনেক বেশি কঠিন। মারাঠওয়াড়ার পারভানি জেলার মোরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা দুজনেরই জীবিকার উৎস মূলত তুলো চাষ। শিবাজীর ক্ষেত্রে তুলো বছরের পর বছর অর্থকরী হিসেবে টিকে থাকলেও, প্রভাকরের ক্ষেত্রে একই ফসলে মুনাফা এখন নেই বললেই চলে।
চাভালরা একা নন, সরকারের কৃষিবিভাগ কর্তৃক প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী মারাঠওয়াড়ার পারভানি, হিঙ্গোলি এবং ঔরঙ্গাবাদের মতন জেলাগুলিতে প্রায় ১৭.৬০ লক্ষ হেক্টর জুড়ে সুবিশাল এলাকায় তুলা চাষ করা হয়। অড়হর, সোয়াবিন বা জোয়ারের মতো খাদ্যশস্যের তুলনায় তুলো চাষ অনেক বেশি লাভজনক হওয়ায় একে ‘অর্থকরী ফসল’ও বলা হয়। যদিও তুলা এখন নামেই অর্থকরী ফসল – তুলোর উৎপাদন খরচ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়েছে অথচ মুনাফার পরিমাণ বছরের পর বছর একই থেকে গেছে।
প্রভাকর বিস্তারে ঘটনাটি জানান। একটি কাগজে তিনি এক একর তুলো চাষের সমস্ত খরচ লিখে রেখেছেন – এক বস্তা বীজের দাম ৮০০ টাকা, জুনের মাঝামাঝি নাগাদ জমি প্রস্তুত করার জন্য শ্রমিকদের মজুরি বাবদ ১১০০ টাকা এবং বীজ বোনার সময় আরও ৪০০ টাকা। এতেই অবশ্য শেষ নয় – যদি যথেষ্ট পরিমাণে বৃষ্টিপাত হয়, তবে তিন ধাপে আগাছা সাফাই বাবদ আরও ৩ হাজার টাকা, সারের মূল্য ৩ হাজার টাকা, কীটনাশক ৪ হাজার টাকা, ফসল কাটার খরচ ৫ হাজার টাকা।
আর সর্বশেষ ধাক্কাটি বাজারে ফসল বিক্রি করার সময় আসে, যখন পরিবহণ খরচ ও ব্যবসায়ীদের কমিশন সহ আরও ৩ হাজার টাকা বেরিয়ে যায়।
একর প্রতি মোট ২০,৩০০ টাকা খরচ হয় বলে প্রভাকর জানালেন। অথচ এই বছর নভেম্বর ডিসেম্বর মাসে ফসলের প্রতাশিত বাজার মূল্য ছিল ৪৩০০ টাকা প্রতি কুইন্টাল (যেখানে গত বছর সেই অঙ্ক ছিল ৪০০০ টাকা।) “[সব খরচ বাদ দিয়ে] আয় হয়ে দাঁড়ায় ৩৪,৮০০ টাকা। ফলে, আট মাসের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম এবং বিনিয়োগের মূল্য হয়ে দাঁড়ায় প্রতি একরে মাত্র ১৪,৫০০ টাকা। এরপরেও রয়ে যায় পাম্প এবং বোরওয়েল বাবদ বিদ্যুতের খরচ এবং ছটি গরুর লালন পালন বাবদ মাসিক খরচ ১৪,০০০ টাকার খানিক বেশি।




