২০২৫-এর ৩১ জুলাই এক নৃশংস ‘অনার কিলিং’এর শিকার হন ২৭ বছরের কেভিন সেলভাগণেশ। ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করে চেন্নাই শহরে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। থুথুকুড়ি জেলার অরুমুগামঙ্গলম, এরালের তেরুকু মাডা স্ট্রিটে তাঁদের বাড়িতে থাকেন তাঁর মা-বাবা, এস. তামিলসেলভি আর চন্দ্রশেখর।
কেভিন আর সুবাসিনী স্কুলে সহপাঠী ছিলেন। ছোটোবেলার বন্ধুত্ব আস্তে আস্তে বদলে যায় প্রেমে। তখন কেভিনের দাদু হাসপাতালে। একদিন তাঁর শরীর স্বাস্থ্যের খবর নিতে হাসপাতালে যান তিনি, সুবাসিনী সেখানেই সিদ্ধ-চিকিৎসক [পারম্পরিক চিকিৎসা অনুশীলনকারী] হিসেবে কাজ করছিলেন।
কিছুক্ষণ পরে সুবাসিনীর ভাই সুজিত এসে কেভিনকে বলেন যে তাঁদের মা বাবা তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। তাঁকে নিজের বাইকে বসিয়ে রওনাও দেন সুজিত। ঠিক দুটো রাস্তা পার করে সুজিত বাইক থামিয়ে একটা চাকু বের করে ঠান্ডা মাথায় খুন করেন কেভিনকে।
খেয়াল করুন, কেভিন, সুবাসিনী আর সুজিত দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু। অথচ কেভিনকে খুন করার সময় তিনি বলেন, “একটা পল্লর [তফসিলি জাতি] হয়ে আমাদের বাড়ির মেয়ের দিকে হাত বাড়াস? এবার আমার মা বাবা শান্তি পাবেন।“
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কেভিনকে কুপিয়ে খুন করার ঠিক আগে তাকে একথাই বলেছিলেন হত্যাকারী সুজিত। প্রসঙ্গত, সুজিতের বাবা ও মা, দুজনেই পুলিশ অফিসার।
কেভিন ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছিলেন। উচ্চশিক্ষা, চাকরি আর অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা নাকি জাতপাতের ভেদাভেদ ঘুচিয়ে দেয় - সমাজে এরকমই বিপজ্জনক ধারণা নিয়ে চলি আমরা। কেভিনের হত্যার ঘটনা নস্যাৎ করে দিয়েছে সেই তত্ত্ব।