ভালোবেসে তিনি কুরিঞ্জি নামে ডাকেন নিজের কর্মস্থলকে। এই শব্দের নানান অর্থের মধ্যে তামিল সঙ্গম সাহিত্য যেটি পাওয়া যায় তার মানে পার্বত্য নৈসর্গ। “কুরিঞ্জি নাম দিয়েছি আমার এই ইউনিটের, কারণ এই অঞ্চলে বাঁশ জন্মায়।“ আজ ২২ বছর ধরে বাঁশের ঝুড়ি, মাদুর, চেয়ার, ঝাঁটা আর খড়খড়ি তৈরি করে চলেছেন পি. আর. বালা।


Madurai district, Tamil Nadu
|MON, OCT 27, 2025
বালার ঝুড়ি, ঝাড়ু, আর খড়খড়ি
গত ২২ বছর ধরে বাঁশের বিভিন্ন পণ্য তৈরির শিল্পে যুক্ত মাদুরাইয়ের পি. আর. বালা। শতাব্দী প্রাচীন এই পারিবারিক পেশা কষ্টসাধ্য তো বটেই, তার উপর আজ আর লাভজনকও নয়। তবু বালার কাছে এই কাজ করে পাওয়া আত্মতুষ্টির মূল্য অসীম
Author
Translator

Dorairaj V.
ভাইগাই নদীর উত্তর পাড়ে আরুলদাসপুরমে তাঁর পৈতৃক বাড়ি। ভিটের সামনের অংশটিকেই নিজের কর্মশালা হিসেবে ব্যবহার করেন মহেন্দ্র মেদারা কারিগর সম্প্রদায়ভুক্ত বালা। তামিল ও তেলুগু ভাষাভাষী এই কারিগর সম্প্রদায়ের মানুষজন প্রায় তিন শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাঁশের কাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করেন।
৩৮ বছর বয়সি বালা বাণিজ্যে স্নাতকোত্তর পাস করার পাশাপাশি ২০০৭ সাল থেকে তামিলনাড়ু পাবলিক সার্ভিস কমিশনের গ্রুপ টু পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার প্রয়াস করছেন কয়েকবার। এই পরীক্ষায় সফল হলে ক্লার্ক, সাব রেজিস্ট্রার অথবা অন্যান্য সরকারি পদে নিয়োগ হওয়ার সুযোগ থাকবে। অবশ্য এখনও পর্যন্ত চাকরি না পাওয়ায়, পারিবারিক পেশাতেই নিজেকে নিযুক্ত রেখেছেন বালা। তাঁর কথায়, “যদ্দুর জানি, প্রায় ৭-৮ প্রজন্ম ধরে এটাই আমাদের পারিবারিক পেশা। তার বেশিও হতে পারে।”
স্ত্রী পি. ভুবনার সঙ্গে মূলত বাঁশের পর্দা তৈরির কাজ করেন বালা। সপ্তাহে একবার, মাদুরাইয়ের আলওয়ারপুরমের বাজার থেকে তিনি তাজা বাঁশের কিনে মজুত করে রাখেন। তিনি বলেন, “দু’রকম বাঁশ হয়, সবচাইতে জুতসই বাঁশগাছ পাওয়া যায় পাহাড়ি অঞ্চলে। বাজারে এই প্রজাতির বাঁশ আসে মুন্নার আর পালাক্কাড থেকে। আরেক প্রকার বাঁশ আসে তামিলনাডুর তাঞ্জাবুর আর পুদুকোট্টাই জেলা থেকে, তবে এটা কিন্তু প্রথমটার মতো অতটা মজবুত হয় না।“
বাঁশ চিরে পাতলা ফালি তৈরি করেন বালা আর ভুবনা। “মনে রাখবেন, এই কাজ করতে গিয়ে আকছার আঘাত লাগে। ঠিকমতো এই কাজ করতে কিন্তু বহু বছরের অভিজ্ঞতা প্রয়োজন।“ এরপর তাঁরা তিন ফুট লম্বা একটা খুঁটির চারপাশে বাঁশের ফালিগুলি বেঁধে দেন। প্রতিদিন প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ বর্গফুট খড়খড়ি বানান তাঁরা। “আমাদের কাজ শুরু হয় সকাল ৭টায় আর রাতে শেষ হতে হতে প্রায় ১০:৩০টা বেজে যায়। সারাদিন বসার সুযোগও হয় না। দিনভর খেটে আমাদের ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়। তার উপর বাঁশে পোকা লাগলে আবার আমাদের লোকসান।“
খড়খড়ির উপরের অংশ তৈরি করতে বালা ও তার পুত্র শারাবানা ভেন্থা বাঁশের ফালিগুলি একটি খুঁটির সঙ্গে বাঁধেন
'আমাদের কাজ শুরু হয় সকাল ৭টায় আর রাতে শেষ হতে হতে প্রায় ১০:৩০টা বেজে যায়। সারাদিন বসার সুযোগও হয় না। দিনভর খেটে আমাদের ৪০০-৫০০ টাকা আয় হয়'
বালার খরিদ্দাররা আসেন কেরালা, গোয়া, ইন্দোনেশিয়া-সহ আরও নানান জায়গা থেকে। “বাঁশের খড়খড়ির বাজার সারা বছর মোটামুটি একই রকম থাকে, তবে গ্রীষ্মকালে এর চাহিদা বেশি,” তিনি জানান। বালার সব লেনদেন সরাসরি তাঁর গ্রাহকদের সঙ্গেই হয়; খড়খড়ি শুধুমাত্র বাড়ি অথবা হোটেলের জন্য পাওয়া বায়নার ভিত্তিতেই বানানো হয়। ঝুড়িগুলি মূলত পাইকারি বাজারের সবজি আর ফলের বিক্রেতা এবং ব্যবসায়ীদের কাজে লাগে।

Dorairaj V.

Dorairaj V.
এই দম্পতির দুই ছেলেমেয়ে - শারাভানা ও রূপা। ছেলে শারাভানা ভেন্থা নবম শ্রেণিতে পড়ছে, আর মেয়ে রূপা বর্ষিণী শ্রীর এখন সবে প্রথম শ্রেণি। “ছেলে আমাদের কাজে হাত লাগায়, তবে মেয়েটা এখনও অনেকটাই ছোটো,” বালা বললেন। তাঁর ইচ্ছে ছেলে যেন এই কষ্টসাধ্য পারিবারিক পেশা থেকে বেরিয়ে কোনওরকম বৌদ্ধিক শ্রমনির্ভর জীবিকা বেছে নিতে পারে। “এই কাজ স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর। আমাকে সারাদিন দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। রাতে আমার পিঠে, পায়ে, আর কব্জিতে ব্যথা শুরু হয়। তাছাড়া, বাঁশ কাটতে গিয়ে আঘাত লাগাটাও আম ব্যাপার। তারপর আবার আপনি এটাও বলতে পারবেন না যে আমার চোট লেগেছে, তাই আজকের মতো একটু বিশ্রাম নিই। এটা যে একেবারেই সম্ভব নয়।“
কমতি রোজগারের কারণে অনেকেই এই পেশা ছেড়ে ড্রাইভার অথবা রংমিস্ত্রির কাজ নিতে বাধ্য হয়েছেন। বালারও ইচ্ছে ছিল তাঁর একটা “ভালো বেতনের, নিরাপদ এবং সুরক্ষিত” সরকারি চাকরি হবে। তবে এখন নিজের সম্প্রদায়ের লোকেদের অন্যের অধীনে কর্মচারি হিসেবে কাজ করতে দেখে, তাঁর মনে হয়েছে যে নিজস্ব একটা ব্যবসা থাকাটা নেহাত কম কথা নয়। তাঁর সগর্ব উচ্চারণ: “আমরা দিন আনি দিন খাই ঠিকই, তবে এই যে আমি নিজেই নিজের মালিক, এতেই আমি খুশি!”

Dorairaj V.

Dorairaj V.

Dorairaj V.
অনুবাদ: শায়েরী দাস
অনুবাদ সম্পাদনা: স্মিতা খাটোর
Want to republish this article? Please write to [email protected] with a cc to [email protected]
Donate to PARI
All donors will be entitled to tax exemptions under Section-80G of the Income Tax Act. Please double check your email address before submitting.
PARI - People's Archive of Rural India
ruralindiaonline.org
https://ruralindiaonline.org/articles/balas-baskets-brooms-and-blinds-bn

