কিন্তু খরাকবলিত মারাঠওয়াড়ার পালভান গ্রাম থেকে কিলোমিটারখানেক দূরে এই ১০০ একর জমিখানায় যার কোনও কমতি নেই, তা হল মনের জোর।
সেই জোরের হদিশ মেলে ২৮ বছরের বিষ্ণু বাগলানে-র কথায়। কাছে-দূরের নানা গ্রাম থেকে এখানে গবাদি পশুদের জন্য বিনামূল্যে ছাউনি, জল ও পশুখাদ্য, এবং নিজেদের জন্য বিনামূল্যের দুপুরের খাবারের টানে এখানে নিজেদের গরু-মোষ নিয়ে এসে জড়ো হওয়া কয়েকশো মানুষের একজন বিষ্ণু। পরপর খরায় শুষ্ক মাটি আর বন্ধ্যা চাষজমির আকালে এইসবের ব্যবস্থা করছে একটি অ-সরকারি সংস্থা, রাজ্য সরকারের সহায়তায়।
“সারাদিনে অনেকবার করে নিজেকে বলি, হাল ছাড়া চলবে না,” ৪৫ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই তাপমাত্রায় নিজের ২০টি পশুর একটির গায়ে মগে করে জল দিতে দিতে বললেন বিষ্ণু। “আর ক’টা মাস টেনে দিতে পারলেই হল।”
তাঁর আশা, বর্ষা ভালো হবে এবার।
মারাঠওয়াড়া অঞ্চলে পরপর চার বছর বর্ষা না নামার পর সেপ্টেম্বর থেকে এখানে এসে আছেন বিষ্ণু ও তাঁর বাবা, ৬৪ বছরের রঘুনাথ বাগলানে। ছেলে সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত পশুদের দেখভাল করেন; বাবা আসেন রাতের খাবার খেয়ে, গোয়ালে রাতটা থাকতে।
পরিবারের মেয়েরা প্রায়ই আসেন দেখা করতে, পাঁচ কিলোমিটার দূরে তাঁদের গ্রাম কাকাধিরে থেকে। বাচ্চাদের নিয়ে আসেন, তারা ছুটোছুটি করে বেড়ায়। ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনও মাঝে মাঝে দেখা করে যান।
চারা ছাওনির দীর্ঘ ইতিহাস
গবাদি পশু শিবির বা চারা ছাওনিগুলির মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকে খরা পরিস্থিতির স্বল্পমেয়াদি সমাধান হিসেবে দীর্ঘ ইতিহাস আছে। শুরু হয়েছিল নাকি সপ্তদশ শতকে শিবাজির রাজত্বকালে। ২০১১ থেকে মহারাষ্ট্রে গ্রীষ্মকালের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হয়ে উঠেছে এগুলি, বিশেষ করে রাজ্যের রুক্ষ্ম মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে।
কিন্তু গত বছরই প্রথমবার এরকম কয়েকটি শিবির শীতকাল হয়ে, নতুন বছরে পড়ে এইবারের গ্রীষ্মকাল অবধি চলছে।
খরায় উষর চাষজমি লিজ নিয়ে এইসব শিবির বসায় সামাজিক সংগঠন বা চিনি কারখানাগুলি; শিবির চলে রাজ্য সরকার বা জন-অনুগ্রহলোভী রাজনৈতিক দলগুলির সহায়তায়।
খরায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মারাঠওয়াড়ার তিন জেলা লাতুর, ওসমানাবাদ ও বীডে ৩৫০টির মতো শিবিরে আছে প্রায় ২৫০,০০০ গবাদি পশু। ছোটো-বড়ো মিলিয়ে বীডে আছে ২৬৫টি শিবির, ওসমানাবাদে ৮০টির মতো, আর লাতুরে মাত্র একটি।
বিড় শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে পালভানের শিবিরটিতে আছে ৩২টি গ্রাম থেকে আসা ৩০০ মতো চাষির ছোটো-বড়ো মিলিয়ে প্রায় ৫,০০০ পশু।