(ছেন্দিপাড়া, ওড়িশা) ৪ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা বাজতে না-বাজতেই রাস্তায় নেমে এল মিছিলের প্রথম ঢল — নারী, পুরুষ, শিশু-যুবা কে নেই সেই দলে!
তাদের হাতে ওড়িয়া ও ইংরেজিতে লেখা সব প্ল্যাকার্ড–কচি, সবুজ বাঁশের মাথায় বাঁধা। আজকের এই মিছিলমুখর মেঘলা সকালটার জন্য নিজেদের জমি থেকেই বাঁশ কেটে এনেছে লোকে। (আগেরদিন বিকেলে এক গ্রামবাসী আমাকে বলেছিলেন, ওইগুলো উল্টো করে ধরলে পুলিশের লাঠির মোকাবিলাতেও কাজে লাগতে পারে: “প্রথমে মোটেই গায়ে হাত তুলতে যাব না। কিন্তু ওরা মারধোর করতে এলে আমরা যে বেবাক মাটিতে পড়ে সইব, এমনটা যেন কেউ ভুলেও না ভাবে।”)
ভোরের হালকা ঝিরঝিরে বৃষ্টি যত মুষলধারে নামতে থাকে, কালো ছাতার মস্ত ছাউনির নিচে থেকে গ্রামবাসীদের স্লোগানের সুর চড়তে চড়তে তত সপ্তমে পৌঁছয়।
“আদানি কোম্পানি মুর্দাবাদ । মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ, মুর্দাবাদ মুর্দাবাদ।”
“জান যায় যাক, হকের জমিন ছাড়ব না ছাড়ব না!”
মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্লোগানের নিশানায় ছিলেন।
“মোদী আগে চা বেচত, এখন আদানির কাছে আমাদের বেচতে চায়,” তারস্বরে চেঁচিয়ে উঠলেন একজন।
উজ্জ্বল রঙের শাড়ি আর রাবারের চটি পরা একদল মহিলা কৃষক স্লোগান তুললেন, “জমির বদলে জমি দাও। তারপর আমাদের জমি নাও।”
আমি যখন শত শত বিক্ষোভকারীর ছবি তুলছিলাম, থেকে থেকেই আমাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছিল, “আপনি আমাদের পক্ষে, নাকি কোম্পানির?” গ্রামের মানুষের মধ্যে সংবাদমাধ্যমের প্রতি এক গভীর অবিশ্বাস ধরা পড়ছিল এই প্রশ্নে। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়মিত শিল্পপতিরা ঘুষ দেয়, আর তাঁরাও গ্রামবাসীদের দিকটা কখনও তুলে আনেন না খবরে।







