“ভেবেছিলাম এমন মা হব যে ভোরবেলা ছেলেমেয়েদের ঘুম থেকে তুলে স্কুলে পাঠাবে, তাদের জন্য ভালোমন্দ রান্না করবে, দিনের অনেকটা সময় কেটে যাবে বাচ্চাদের সঙ্গেই। কিন্তু এমনই কপাল, ওরা ঘুম থেকে ওঠার চার ঘণ্টা আগেই কাজে বেরিয়ে যেতে হয়, আর রাতে যখন বাড়ি ঢুকি, ওরা ততক্ষণে ঘুমে ঢুলছে। সারা হপ্তা ধরে শুধু ভাবি কবে রোববার আসবে, আর আমি বাড়িতে বাচ্চাদের সঙ্গে একটু সময় কাটাতে পারব। সপ্তাহে এই একটা দিনই ৮ ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম আর আর তিনবেলা পেট পুরে খাওয়ার সময়-সুযোগ হয় আমার,” আমুলু বলছিলেন। আজ অবশ্য ছুটির দিন নয়। তাই চেন্নাইয়ের উত্তরপ্রান্তের তিরুভট্রিয়ুর এলাকার সরু গলির মধ্যে দিয়ে পাশাপাশি হেঁটে যেতে যেতে কথা হচ্ছিল আমাদের। আমুলু তাঁর সবজি বোঝাই ঠেলা ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলেন পড়ন্ত দুপুরের রোদে আর আমি ফিরছিলাম কলেজ থেকে।
সকালে, কলেজে বেরোনোর সময়ই দেখেছিলাম নরম পুনম শাড়ি জড়ানো আমুলু একটা প্রায় ১০০ কেজির সবজি বোঝাই ঠেলা গায়ের সবটুকু জোর দিয়ে ঠেলে নিয়ে চলেছেন। এখন ফেরার সময় আবার দেখা হয়ে গেল তাঁর সঙ্গে। গরমকালে তিরুভল্লুরের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরেই থাকে। এবছর সব থেকে গরমের দিনে তা গিয়ে ঠেকছিল ৪৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কিন্তু এই তীব্র দাবদাহেও নিজের দৈনিক ব্যবসায় ক্ষান্ত দেননি ৪১ বছরের সবজি-ফেরিওয়ালি আমুলু। ভারতের ফেরিওয়ালাদের ৬৮ শতাংশের মতোই রোদ-জল-বৃষ্টি, এমনকি এই তীব্র গরমেও প্রায় সারাদিন খালি পেটে রাস্তায় রাস্তায় সবজি ফিরি করে ফিরেছিলেন তিনি, কারণ ছুটি নেবার ফুরসত নেই তাঁর। এদেশের প্রায় এক কোটি মহিলা ফেরিওলাদের ৪০ শতাংশও তাঁরই মতো এই তীব্র তাপপ্রবাহের সঙ্গে যুঝে যাচ্ছিলেন পেট চালানোর দায়ে।






















