মাইকোব্যকটিরিয়াম লেপ্রি ব্যাকটিরিয়া জনিত অসুখ কুষ্ঠ সারতে দীর্ঘ সময় লাগলেও তা নিরাময়যোগ্য। ২০২৪ সালে ভারতে ১,০০,০০০ এর ওপর নতুন রোগীর দেখা পাওয়া গেছে। কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যার ভিত্তিতে পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় ব্রাজিলের থেকে তা প্রায় পাঁচগুণ বেশি। বরাবরই, কুষ্ঠ (হ্যানসন ডিজিজও বলা হয়ে থাকে) রোগীর সংখ্যার ভিত্তিতে প্রথমস্থানেই থেকেছে ভারত।
১০ বছর বয়সে নিয়ামতের প্রথম কুষ্ঠ হয়। “ঘা হতে শুরু করে, মাঝে মাঝে কমে যেত, কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই খুব বাড়াবাড়ি হত। আমি সেসবে বেশি পাত্তা না দিয়েই কাজ করে যেতাম তখন,” পারি’কে জানালেন তিনি।
কৃষক পরিবারের সন্তান নিয়ামত, খেতেখামারেই কাজ করতেন। “আস্তে আস্তে অসুখ বেড়ে গেল। হাতের পায়ের আঙুলগুলো অসাড় হয়ে যাচ্ছিল। মনে আছে, একবার বরফের মধ্যে ঘাস কাটতে কাটতে সাড় নেই বলে আঙুল পুড়িয়ে ফেলেছিলাম, বুঝতেই পারিনি। তারপর একে একে আঙুল খসে যেতে থাকল।”
তাঁর মতে, গ্রামের লোকেরা তখনও ঠিক অসম্মান করেননি তাঁকে, কী অসুখ ছড়াচ্ছে তা নিয়ে অনিশ্চিত ছিলেন তাঁরা। “লোকে আমার পিছনে কি বলত, সেসব তো আর জানতাম না!” সে সময়ের কথা মনে করে গলা বুজে আসে তাঁর। তাঁকে নিজেদের আশেপাশে দেখে মানুষজনের মধ্যে অস্বস্তির জন্ম নিত - এইসব স্মৃতি ভিড় করে আসে মনে।
এসবই বিগত শতকের ছয়ের দশকের কথা। বেশ কয়েক দশক ধরেই কুষ্ঠ ছড়িয়ে রয়েছে ভারতে। ১৯৮৩ সালের পরিসংখ্যান অনুসারে প্রতি ১০,০০০ জনের মধ্যে ৫৭ জনই এই রোগের শিকার ছিলেন সে সময়ে। এখন প্রতি ১০,০০০ জনে মাত্র একজন রোগীর দেখা মেলে, অর্থাৎ অবস্থার উন্নতি হয়েছে যথেষ্টই। ১৯৮২ সালের “এমডিটি” (মাল্টি ড্রাগ ট্রিটমেন্ট) চালু হবার ফলেই এসেছে এই পরিবর্তন।